বরেন্দ্রের মাটিতে গড়ে উঠছে কুটুমবাড়ি

Printed Edition

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে তানোর উপজেলা সদর। সেখান থেকে আরো প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে মুন্ডুমালা পৌর এলাকার চুনিয়াপাড়া গ্রাম। বরেন্দ্রভূমির উঁচু-নিচু জমি, লালচে মাটি আর গ্রামীণ প্রকৃতির আবহে শতাধিক বিঘা জমির ওপর গড়ে উঠছে ‘কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্ট’। কৃষি, প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন ধরনের অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলাই উদ্যোগটির লক্ষ্য। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য মাটির ঘরসহ বিভিন্ন পর্যটনসুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত উদ্বোধন ও বিশেষ অতিথি সম্মেলনে প্রকল্পের পরিকল্পনা তুলে ধরেন উদ্যোক্তারা।

প্রকল্পের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলের নিজস্ব প্রকৃতি ও কৃষিভিত্তিক জীবনকে কেন্দ্র করে কুটুমবাড়িকে একটি ভিন্নধর্মী পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপস্থাপক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ডি এম সাকলায়েনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শহুরে ব্যস্ততা থেকে দূরে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে চান তারা।

কুটুমবাড়ি এগ্রো রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিঠুন কুমার বলেন, উদ্যোগটির অন্যতম আকর্ষণ হবে মাটির ঘর। আধুনিক নগরজীবনের কনক্রিটের পরিবেশের বাইরে দর্শনার্থীরা সেখানে গ্রামীণ আবহ উপভোগ করতে পারবেন। মাটির ঘরের বারান্দা, খোলা বাতাস ও আশপাশের মাঠ-প্রকৃতি দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্ন অভিজ্ঞতা তৈরি করবে। প্রকল্পটির মূল নকশাকার মো: মামুন সারোয়ার বলেন, কৃষি ও প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে ব্যতিক্রমী একটি অবকাশকেন্দ্রের নকশা করা হয়েছে। এখানে কৃষিকাজের পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

বরেন্দ্রভূমির উঁচু-নিচু ভূমি ও লালচে মাটি এ অঞ্চলের প্রকৃতিকে দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় আলাদা বৈশিষ্ট্য দিয়েছে। উদ্যোক্তাদের পরিকল্পনায় সেই বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে কৃষি ও পর্যটনের সমন্বিত আয়োজন গড়ে তোলার কথা রয়েছে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষ, প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এতে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি হতে পারে। উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে স্থানীয় পর্যটনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়তে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।