ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন গোলরক্ষক। কিন্তু একে তো উচ্চতায় খাটো। তার ওপর পোস্টের নিচে পারফরম্যান্সও ভালো ছিল না। তাই গোল কিপিং ছেড়ে খেলা শুরু করেন স্ট্রাইকিং পজিশনে। বলা হচ্ছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার আলপি আক্তার সম্পর্কে। ছোটখাটো গড়নের শক্তপোক্ত এই ফুটবলার এখন বয়সভিত্তিক নারী জাতীয় দলের অন্যতম ভরসা। আরেকটি বিষয় হলো ভারতকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেলেই জ্বলে উঠেন তিনি। এ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে তার করা গোলের সংখ্যা পাঁচ ম্যাচে তিনটি। যার সর্বশেষটি হয়েছে গতকাল নেপালের পোখারার রঙ্গশাল স্টেডিয়ামে। তার করা গোলই বাংলাদেশকে ২-০ গোলে জিততে সাহায্য করেছে ভারতের বিপক্ষে। যা অনূর্ধ্ব-১৯ নারী সাফের ফাইনালের পথে নিয়ে গেছে লাল-সবুজদের। ফলে আগামী কাল নেপালের সাথে ড্র করলেই ৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে খেলা হবে পিটার জেমস বাটলার বাহিনীর। আলপির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আট গোলের তিনটিই ভারতের বিপক্ষে। গত ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ছিল হ্যাটট্রিক।
কৃষক বাবার মেয়ে আলপি। মা অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। এই আলপির বিশেষত্ব হলো তিনি অন্য ফুটবলারদের মতো বঙ্গমাতা আন্তঃপ্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল বা জেএফএ কাপের মাধ্যমে জাতীয় দলে ট্রায়ালে আসেননি। সরাসরিই ট্রায়ালে এসেছেন। বোদা ফুটবল অ্যাকাডেমিতে খেলা শিখেছেন। তার শুটিং পাওয়ার মুগ্ধ করেছিল নারী জাতীয় দলের সাবেক কোচ সাইফুল বারী টিটুকে। তিনিই ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাকেন আলপিকে। এরপর টিকে যান জাতীয় দলে। সেবার নেপালে অনুষ্ঠিতব্য অনূর্ধ্ব-১৬ নারী সাফে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। নিয়মিত একাদশে খেলেছেন দাপটের সাথে। সেই আসরেই লিগ পর্বে ভারতের বিপক্ষে গোল করেন তিনি। তা ছিল দূরপাল্লার শটে। অবশ্য ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ট্রাইব্রেকার মিস করেন তিনি। তার শট বাইরে যায়। ওই শটে তিনি সফল হলে তখনই চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশ। পরে অবশ্য গোলরক্ষক ইয়ারজানের তিনটি টাইব্রেকার ঠেকানোর কৃতিত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ।
গত বছর ভুটানের মাঠে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৭ নারী সাফেও ভারতের বিপক্ষে গোল এই আলপির। প্রথম পর্বের ম্যাচে তিনি গোল পাননি। ফলে দলও হেরেছে। তবে ফিরতি পর্বে বাংলাদেশের ৪-৩ গোলে জয়। সেই ম্যাচে ভারতের জালে বল পাঠিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। গত সাফে তার দুই গোল ছিল ভুটানের বিপক্ষে। গতকাল নেপালের পোখারা স্টেডিয়ামে আবার ভারতের বিপক্ষে জয় অর্পিতা বিশ্বাসদের। এই ম্যাচেও দুর্দান্ত এক শটে গোল গোল তার। ডান দিক থেকে আসা তৃষ্ণা রানীর ক্রসে চলন্ত বলে পা লাগিয়ে দর্শনীয় গোল করেন তিনি। ফলে হয়েছেন ম্যাচ সেরাও। বাফুফের নারী উইংয়ের প্রধান মাহফুজা আক্তার কিরণ মাঠে উপস্থিত ছিলেন। তিনিই আলপির হাতে তুলে দেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। পরশু কিরণ ফুটবলারদের হাতে হাত রেখে ভারতকে হারাতে উদ্বুদ্ধ করেন।
এবারের ঘরোয়া লিগে রাজশাহী স্টারসের হয়ে ৪ হ্যাটট্রিকসহ ২৫ গোল করেছেন আলপি আক্তার।



