‘চলেন যুদ্ধে যাই’ বলেই বাসা থেকে বের হলেন প্রধানমন্ত্রী

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিদিন খুব সকালেই ঘুম থেকে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর প্রতিদিনই ৯টার মধ্যেই নিজ কার্যালয়ে আসার চেষ্টা করেন তিনি। অবস্থা এমন হয়েছে, এমন অনেক দিন গিয়েছে, তার আগে সচিবালয়ে কোনো মন্ত্রীই আসেননি। এমনই একটি দিন ছিল গতকাল রোববার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস। যদিও তিনি আগের দিন শনিবার বন্ধের দিনও অফিস করেছেন। অন্য কার্যদিবসের মতোই আরেকটি দিনের সূচনা করতে গতকাল বাড়ি থেকে সকালে বের হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু বাসা থেকে বের হবার সময় তার একটি মন্তব্যে নিয়মিত দৃশ্যপটের ব্যতিক্রম ঘটল। বাড়ির দরজা খুলে উপস্থিত সবার উদ্দেশে মুচকি হেসে বললেন, ‘চলেন যুদ্ধে যাই।’

গতকাল সকালে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বের হবেন, এ জন্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে এলে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের স্যালুট। প্রধানমন্ত্রী সালাম গ্রহণ করে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বললেন, ‘কেমন আছেন আপনারা। চলেন যুদ্ধে যাই’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন তিন শব্দের এই লাইন বললেন, তখন সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা হতচকিত হয়ে পড়েন। পরক্ষণেই উপস্থিত কারোই বুঝতে বাকি রইলা না যে, তিনি দেশ পরিচালনার কাজকে ‘যুদ্ধ’ বলে বুঝিয়েছেন। তিন শব্দের চমকপ্রদ লাইনে দেশ গঠনে তার প্রতিদিনের সংগ্রামের কথা বলেছেন।

গুলশান অ্যাভিনিউর বাসায় থেকে প্রধানমন্ত্রী বেরুনোর সময়ে- চলেন যুদ্ধে যাই এ রকম মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বলেন, সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী গুলশানের বাসা থেকে বের হন। সচিবালয়ের পৌঁছান ৯টা ১৬ মিনিটে। প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে তার ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রস্তুত থাকেন। প্রতিদিনের মতো সেই প্রস্তুতি নিয়ে তারা যখন প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন, ঠিক তখন বাড়ির দরজা খুলেই চিরচায়িত হাস্যোজ্জ্বল মুখে সবার উদ্দেশে এ কথা বলেন।

দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সকাল সকাল অফিসে আসছেন। ছুটির দিন শনিবারও তিনি অফিস করছেন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিবসহ কর্মকর্তারাও যাতে সকালে অফিসে আসে সেই তাগাদাও দিচ্ছেন তিনি। দীর্ঘ দিনের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম, নানা সমস্যা থেকে উত্তরণে দিনরাত প্রধানমন্ত্রী কাজ করছেন। এই পরিস্থিতির পরিবর্তনে অর্থাৎ দেশ পূনর্গঠনের এই অভিযাত্রাকে প্রকাশ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চলেন, যুদ্ধে যাই, দেশ গড়ার যুদ্ধে যাওয়ার কথা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।