সংসদ প্রতিবেদক
দেশে কার্যরত চারটি মোবাইল ফোন অপারেটর প্রতিষ্ঠানের কাছে সরকারের মোট ১৩ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা রাজস্ব বকেয়া রয়েছে। একই সাথে মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বলতা, কল ড্রপ ও ধীরগতির ইন্টারনেট সমস্যার সমাধানে দেশব্যাপী সেবার মান যাচাই ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সরকারি দলের সদস্য লুৎফর রহমানের তারকাচিহ্নিত প্রশ্ন এবং ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, চারটি মোবাইল অপারেটরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেডের কাছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে বর্তমানে সরকারের পাওনা ছয় হাজার ১০১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি বাবদ বিটিআরসির মোট দাবি ছিল আট হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রামীণফোন দুই কিস্তিতে দুই হাজার কোটি টাকা এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলার রায়ের পর আরো ৩৯২ কোটি ১৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। অবশিষ্ট অর্থ আদায়ের বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
রাজস্ব বকেয়ার তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড। লাইসেন্স ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং, স্পেকট্রাম ফি, প্রশাসনিক জরিমানা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল বাবদ প্রতিষ্ঠানটির কাছে পাঁচ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা ইকুইটিতে রূপান্তরের আবেদন বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে।
রবি আজিয়াটা লিমিটেডের কাছে মোট ৬১৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি সংক্রান্ত ৪৯০ কোটি টাকা এবং রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বাবদ ১২৫ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত। এ দু’টি বিষয়েও আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।
বাংলালিংক ডিজিটাল কমিউনিকেশনস লিমিটেডের ক্ষেত্রে ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট আপত্তি বাবদ মোট পাওনা ছিল ৮১১ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ১৬৬ কোটি টাকা এবং ভ্যাট-সংক্রান্ত মামলার রায়ের পর আরো ২১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে বর্তমানে এ খাতে বকেয়া রয়েছে ৪৩০ কোটি টাকা। এ ছাড়া রেভিনিউ শেয়ারিংয়ের ওপর প্রযোজ্য মূসক বাবদ আরো ৪৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এ বিষয়ে বিটিআরসির মামলা দায়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বকেয়া রাজস্ব আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান উন্নয়ন ও গ্রাহকস্বার্থ সুরক্ষায় ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস বেঞ্চমার্কিং সিস্টেম’ সংক্রান্ত পদ্ধতিমালা জারি করা হয়েছে এবং এর হালনাগাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, নতুন নির্দেশিকার আলোকে ২০২৬ সালে প্রাথমিকভাবে দেশব্যাপী প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার এলাকায় ড্রাইভ টেস্ট সম্পন্ন করা হয়েছে। এ পরীক্ষার মাধ্যমে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক কভারেজ ও সেবার মান যাচাই করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের অন্যান্য এলাকার মতো ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় কোয়ালিটি অব সার্ভিস ড্রাইভ টেস্ট পরিচালনা করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হবে।
তিনি বলেন, আধুনিক, নিরবচ্ছিন্ন ও গ্রাহকবান্ধব মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।



