গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটসহ নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি

বিভিন্ন স্থানে ১১ দলীয় ঐক্যের অবস্থান কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি

Printed Edition
গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিতে মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসে যান : নয়া দিগন্ত
গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কট ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিতে মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসে যান : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশে গ্যাসের সঙ্কট, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং, মূল্য বৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরে স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।

চট্টগ্রামে সমাবেশ-স্মারকলিপি প্রদান

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, দেশে গ্যাসের সঙ্কট, বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং, মূল্য বৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল সকালে নগরীর লালদীঘি জেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। নগর সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগরী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, জামায়াত সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, এনসিপির আহ্বায়ক মীর মো: শোয়াইব, জাগপা সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, এলডিপি সভাপতি সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন আলম, লেবার পার্টির সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, বিডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. শেখ জোবায়ের মাহমুদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সেক্রেটারি আনোয়ার হোসাইন রব্বানি, কেন্দ্রীয় যুব সচিব অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. নেজাম উদ্দিন এবং কোতোয়ালি থানা আমির আমির হোসাইন, দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক ও উত্তর জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম।

পরে জোটের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরপর ১১ দলের নেতারা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট নিরসন, ভয়াবহ লোডশেডিং বন্ধ, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি ও ভুতুড়ে বিল আদায় বন্ধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের গেজেট প্রকাশসহ জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানানো হয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) মো: আনিছুর রহমান খান।

খুলনায় স্মারকলিপি

খুলনা ব্যুরো জানায়, তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্য প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়।

স্মারকলিপিতে তারা চার দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো- জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের অযৌতিক মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করতে হবে; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে নজরদারি বাড়িয়ে সিন্ডিকেট মজুদদারি ও কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিতে হবে; দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ন্যায্য মূল্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনার নেতাদের মধ্যে সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি অধ্যক্ষ মো: সাইফুদ্দোহা, জাগপার জেলা সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি রাকিব হাসান, জামায়াতের আজিজুল ইসলাম ফারাজী, প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুল গফুর, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, লেবার পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাওলাদার, খুলনা সদর থানা আমির এস এম হাফিজুর রহমান, খালিশপুর থানা আমির মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান তারা।

রাজশাহীতে স্মারকলিপি

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, গ্যাস সঙ্কট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আদায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির পাশাপাশি নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাইর (নেসকো) প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন রাজশাহীর ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। মানববন্ধনে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সঙ্কট, ঘন ঘন লোডশেডিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এর সাথে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী এবং এ অঞ্চলের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গুরুত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

মানববন্ধন শেষে তাদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের কাছে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। প্রতিনিধিদলে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল, জেলা সেক্রেটারি গোলাম মোর্তুজা, মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন সরকার এবং এনসিপির রাজশাহী মহানগর আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গ্যাস সঙ্কট, লোডশেডিং, বিদ্যুৎসহ দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে স্মারকলিপি প্রদান

রংপুর ব্যুরো জানায়, গ্যাস সঙ্কট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ও ভুতুরে বিল আদায় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রংপুরের ডিসির মাধ্যমে স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল দুপুরে নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ডিসি অফিসে ঘেরাও করেন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা গ্যাস দে, পানি দে, নইলে গদি ছেড়ে দে- বিভিন্ন সেøাগান দেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় ঐক্যের রংপুর মহানগর নেতাদের মধ্যে জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সভাপতি অ্যাডভোকেট কাওছার আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আল মামুন, মহানগর সদস্যসচিব আব্দুল মালেক, এবি পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবার রহমান মাহবুব, লেবার পার্টির নেতা শামসুদ্দীন রাজা প্রমুখ।

পরে মহানগর জামায়াত আমির এ টি এম আজম খানের নেতৃত্বে ১১ দলের একটি প্রতিনিধিদল ডিসির কার্যালয়ে যান। সেখানে ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিনের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন। ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের স্মারকলিপি গ্রহণ করে তা প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সিলেটে স্মারকলিপি প্রদান

সিলেট ব্যুরো জানায়, একই দাবিতে সিলেটে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য জেলা ও মহানগর শাখা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেয়া হয়। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভিন।

এর আগে বাদ জোহর জেলা ও মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নগরীর সিটি পয়েন্ট থেকে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে স্মারকলিপি দেন। স্মারকলিপি দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ১১ দলের নেতারা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

তারা জানান, স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরো বাড়বে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে পড়বে এবং শিল্প-বাণিজ্যসহ জাতীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন- সিলেট জেলা ও মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ, মহানগর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মহানগর আহ্বায়ক আলহাজ মাওলানা এমরারন আলম, জেলা সভাপতি হাফিজ মাওলানা ইকবাল হুছাইন, লেবার পার্টির মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, জেলা সভাপতি মাওলানা নুরুল আমিন নিয়াজী, এলডিপি মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগর সভাপতি মাওলানা মুজাম্মিল হক তালুকদার, জাগপা মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, এবি পার্টির মহানগর আহ্বায়ক ওমর ফারুক, বিডিপি মহানগর সভাপতি কবির আহমদ, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন প্রমুখ।