প্রতি আসনে গড়ে লড়ছেন ৬.৭৮ জন

উচ্ছ্বাস, উৎকণ্ঠা আর প্রতীক্ষার ভোট আজ

হামিদুল ইসলাম সরকার
Printed Edition

  • সাড়ে ৪ কোটি তারুণ্যের ভোট এবার ট্রাম্পকার্ড
  • জয়ের ফ্যাক্টর ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪৬টি পোস্টাল ভোট
  • গড়ে ভোট পড়তে পারে ৫৫-৬০ শতাংশ
  • কেন্দ্রে অরাজকতা করে কেউ বাড়ি ফিরতে পারবে না : ইসি সানাউল্লাহ

চলছে উচ্ছ্বাস, উৎকণ্ঠা আর প্রতীক্ষার নির্বাচন। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম জীবনহানি ও জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পতন ঘটিয়ে পাওয়া ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছে আজ দেশের ২৯৯ আসনে প্রায় পৌনে ১৩ কোটি ভোটার। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর ভোট দেয়ার উচ্ছ্বাস, প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দুই জোট শিবিরে জয়ী হওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠা এবং শাসনক্ষমতায় যাওয়ার এক ধরনের প্রতীক্ষা কাজ করছে দল ও প্রার্থীদের মধ্যে। প্রতিটি আসনে এবার ভোটযুদ্ধে লড়ছেন গড়ে ৬.৭৮ জন প্রার্থী। আর সাড়ে চার কোটি তারুণ্যের ভোট হবে এবার বিজয়ের ট্রাম্পকার্ড। পাশাপাশি দু’ধরনের ১০ লাখ ৯৫ হাজার ৫৪৬টি পোস্টাল ভোটও জয়ের জন্য বড় ফ্যাক্টর হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ ভোটাররা ভোট দিতে আসবেন না। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ড্রোন, সিসিক্যামেরা এবং বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত্ত পুরো দেশ। আর ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই সংসদ নির্বাচনের ভোট ও পোস্টাল ব্যালট এবং গণভোটের ব্যালট একই সাথে গণনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসি আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ।

জয়ের ট্রাম্পকার্ড পোস্টাল ব্যালট ও তরুণ্যের ভোট : প্রথমবারের মতো ১০ লাখ ৯৫ হাজারের বেশি প্রবাসী ও দেশের ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ইতোমধ্যে ভোট দিয়েছেন। আট লাখ ৮৩ হাজার ১৮টি ব্যালট এখন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে। আজ বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাবে সেগুলো বিজয়ের ফ্যাক্টর হবে। আর সাড়ে চার কোটি তারণ্যের ভোট এবারের বিজয়ের ফলাফল নির্ধারণের ট্র্াম্পকার্ড হবে। এর সাথে রয়েছে এক কোটির বেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট। যেখানে মোট ভোটারের অর্ধেকই নারী সেখানে তাদের ভোটও বিজয়ের মাধ্যমে সংসদে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্ব বহন করছে।

অতীতের নির্বাচনে প্রতি আসনে গড় প্রার্থী: বিতর্কিত ২০২৪ সালের ডামি ভোটে গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল প্রতি আসনে ৬.৫৬ জন। এই নির্বাচনে তিন শ’ আসনে মোট এক হাজার ৯৭০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তখন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ৪৩৬ জন। মাত্র ২৮টি দল অংশ নেয় এই ভোটে। ২০১৮ সালের দিনের ভোট রাতে করার নির্বাচনে ৩৯টি দলের এক হাজার ৭৩৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যাদের মধ্যে স্বতন্ত্র ছিলেন ১২৮ জন। এইবার প্রতি আসনে গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫.৭৭ জন। বিনা ভোটের ২০১৪ সালের সাজানো নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে কোনো ধরনের নির্বাচনই হয়নি। ২০০১ সালের নির্বাচনে এক হাজার ৯৩৫ জন প্রার্থী অংশ নেয়। রাজনৈতিক দল অংশ নেয় ৫৪টি। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিল ৪৮৪ জন। ওই নির্বাচনে প্রতি আসনে গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় ৬.৪৫ জনের। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে প্রতি আসনে গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৯.২৯ শতাংশ। এই নির্বাচনে ৭৫টি রাজনৈতিক দলেরসহ মোট দুই হাজার ৭৮৭ জন প্রার্থী ছিলেন, যার মধ্যে স্বতন্ত্র ছিলেন ৪২৪ জন।

এবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা

এবারের নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে মোট দুই হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫০টি রাজনৈতিক দলের মোট প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৭৫৫ জন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। দলীয় ৬৩ জনসহ মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ৮৩ জন। যেখানে স্বতন্ত্র ২০ জন। আর পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা এক হাজার ৯৪৬ জন, যেখানে দলীয় এক হাজার ৬৯২ জন এবং স্বতন্ত্র ২৫৩ জন।

ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য:

এবার জাতীয় সংসদে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ভোটে ২৯৯টি আসনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২শ’ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার এক হাজার ২৩২ জন। ভোটগ্রহণের জন্য এবার মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসিক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ২১ হাজার ৫০৬টি। সাধারণ কেন্দ্র হলো ২১ হাজার ২৭৩টি।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রায় ৮ লাখ:

এবার ২৯৯টি আসনের ভোটগ্রহণের জন্য রিটার্নিং অফিসার ৬৯ জন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হলো ৫৯৮ জন। প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন। আর পোলিং অফিসার চার লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন।

৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী:

পুরো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য এক লাখ তিন হাজার। নৌবাহিনীর সদস্য পাঁচটি জেলায় ১৭টি আসনে পাঁচ হাজার মোতায়েন করা হবে। বিমানবাহিনীর সাড়ে তিন হাজার সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। বিজিবির এক হাজার ২১০ প্লাটুন বা ৩৭ হাজার ৪৫৩ সদস্য থাকবেন। কোস্টগার্ড ১০টি জেলায় ১৭টি আসনে (২০টি উপজেলার ৬৯টি ইউনিয়নে) ৩৩২টি ভোটকেন্দ্রে তিন হাজার ৫৮৫ সদস্য মোতায়েন করা হবে। পুলিশ এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন। র‌্যাব ৯ হাজার ৩৪৯ জন মোতায়েন করা হবে। আনসার পাঁচ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন মোতায়েন করা হবে। বিএনসিসি ১২৮ সেকশন, এক হাজার ৯২২ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

ভোট দেখতে ঢাকায় ৫৯৩ জন বিদেশী পর্যবেক্ষক-সাংবাদিক:

জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট সামনে রেখে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ভোট দেখতে এখন ঢাকায় অন্তত ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশী সাংবাদিকসহ মোট ৫৯৩ জন বিদেশী। আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তুলনামূলকভাবে একাদশ, দ্বাদশ ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১৫৮, ১২৫ এবং মাত্র ৪ জন।

পর্যবেক্ষক পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে, এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফরেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৭ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ১৯ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন। এ ছাড়া ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অব এশিয়ান পলিটিক্যাল পার্টিজ (আইসিএপিপি) থেকে দু’জন করে এবং ইউরোপিয়ান এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস থেকে একজন প্রতিনিধি এসেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি ২১টি দেশ থেকেও পর্যবেক্ষকরা এসেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান (৮), ভুটান (২), শ্রীলঙ্কা (১১), নেপাল (১), ইন্দোনেশিয়া (৩), ফিলিপাইনস (২), মালয়েশিয়া (৬), জর্দান (২), তুরস্ক (১৩), ইরান (৩), জর্জিয়া (২), রাশিয়া (২), চীন (৩), জাপান (৪), দক্ষিণ কোরিয়া (২), কিরগিজস্তান (২), উজবেকিস্তান (২), দক্ষিণ আফ্রিকা (২) ও নাইজেরিয়া (৪)। এ ছাড়া ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন ও পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের প্রতিনিধিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।

গত মধ্যরাত থেকে বন্ধ ৪ ধরনের যান চলাচল:

ভোটগ্রহণের জন্য যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। তারই অংশ হিসেবে গত মধ্যরাত থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য সারা দেশে ৪ ধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে দূরপাল্লার যাত্রীবহনকারী বাস চলাচলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল আছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমীন মো: নুরুল ইসলামের সম্প্রতি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণের জন্য ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) ট্যাক্সি ক্যাব, পিক আপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। একইসাথে ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (৭২ ঘণ্টা) মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে, উপরোল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্রবাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক; জরুরি সেবাকাজে নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন; আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর হতে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে) এবং দূরপাল্লার যাত্রীবহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যেকোনো যানবাহন নিষেধাজ্ঞার শিথিলযোগ্য হবে।

ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৩ আসনের বেশ কিছু সাধারণ ভোটার ও কর্মজীবী মানুষের সাথে কথা হলে তারা গতকাল বলেন, আমরা চাই একটি সুন্দর সুষ্ঠু ও ভোটার উপস্থিতিপূর্ণ নির্বাচন। গত তিনটি নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে যাইনি। আবার যেতেও পারিনি। এবার আশা করছি ভোট দিতে যাবো। সরকার ও ইসির উচিত পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া। আবদুল খালেক নামের একজন রিকশাচালক, যিনি আগারগাঁও তালতলা এলাকায় থাকেন। বাড়ি তার নেত্রকোনা। তিনি ভোট দিতে যাবেন। তার মতে, ভোটার উপস্থিতি ৬০ শতাংশের বেশি হবে না।

সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এখন আবশ্যক: ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান

নির্বাচন বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা-ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খানকে ভোটের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ, ত্রুটিমুক্ত সবার গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন এখন আর কারো পছন্দের পর্যায়ে নেই। এটা এখন দেশের জন্য আবশ্যিক। নির্বাচনে সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার রাজনৈতিক দল এবং ভোটার। নির্বাচন কমিশন তো পাঁচ বছরের জন্য আসে। আবার তারা চলেও যায়। তাদের দায় দায়িত্বের পরে তাদের শাস্তি দিলেইবা কী লাভ। যদি না নির্বাচনটাই খারাপ হয়ে যায়। তিনি বলেন, নির্বাচনটা ভালো করার জন্য শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের ওপরে বসে না থেকে অল অব অল অন্যান্য স্টেকহোল্ডার তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা এবং প্রচেষ্টা চালাতে হবে। বিশেষ করে আমি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের কথা এবং ভোটারদের নিজেদের দায়িত্বের কথা বলছি। প্রত্যেকে নিজস্ব দায়িত্বে এবারকার নির্বাচন সফল করবেন। আমাদের কোনোরকমই ভাবা যাবে না যে এটা চয়েস। এটা ভাবতে হবে, এটা ভালো হওয়া আমাদের জন্য আন্তরিক হতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের তরুণ ভোটার, যারা পূর্বে ভোটার হয়েও ভোট দেয়ার সুযোগ পাননি এবং যারা এবার প্রথম ভোটার হয়েছেন। তাদের জন্য সেই সুযোগ থাকবে কি না, নিরাপদে নিজের ভোট নিজে দিতে পারবেন কি না- নানা প্রশ্ন ভোটারের মনে অস্বস্তির জায়গা করে নিচ্ছে। সংখ্যালঘু বা বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধী ভোটারদের অংশগ্রহণে কিংবা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে কি না, সেখানেও কিছু কিছু সন্দেহ আছে। দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটার নারী থাকায় তাদের ভোট প্রদান এবার ভীষণভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। এমন সব নানা বিষয় নির্বাচন নিয়ে কতটুকু প্রভাব ফেলবে, সেটা জানা যাবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে।

কেন্দ্র দখল, ছিনতাই না হলে ভোট গ্রহণযোগ্য হবে- জেসমিন টুলি:

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য, ইসির সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, এবার ভোট সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হবে। এতে কোনো সমস্যা দেখছি না। সাধারণ ভোটাররা সাধারণত একটু পরে আসেন। তবে যদি নেতাকর্মীরা খুব ভোরে কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনা তৈরি করে, সেটি সমস্যা হতে পারে।

নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে যদি কোনো ঝামেলা না হয়, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্র দখল বা বাইরে মারামারির ঘটনা না ঘটে, তাহলে নির্বাচন অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হবে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশ করতে পারলেই সেটাই হবে সবচেয়ে বড় সাফল্য এই নির্বাচন কমিশনের জন্য।

ইসি আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ:

ভোটের দিন কেন্দ্র দখল প্রসঙ্গে গতকাল সকালে এক অনুষ্ঠানে বিদেশী ও দেশী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ইসি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ বলেন, এবার সিসি ক্যামেরা, বডি ওর্ন ক্যামেরা, ড্রোন, বিমানবাহিনীর মানুষহীন আকাশযান ইত্যাদি থাকবে। কেউ কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভোটকেন্দ্রে অরাজকতা সৃষ্টি করে বাড়ি ফিরে যেতে পারবে না। তিনি বলেন, একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। ভোটাররা নির্বঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরবেন।