জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে বেগবান করতে সামনে থেকে সমন্বয়ের পাশাপাশি আড়ালে থেকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, মাহফুজ আলম তাদের একজন। আন্দোলন চলাকালে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও গণ গ্রেফতারের মধ্যেও আন্দোলনটি সচল রাখার কাজ করেছিলেন তিনি। জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনের ফাঁকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ‘ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ লিডার্স স্টেজ’ অন্ঠুানে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তাকে চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানে নেপথ্যের নায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
মাহফুজ আলম ১৯৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন লক্ষ্মীপুরে। তিনি চাঁদপুরের একটি মাদরাসা থেকে দাখিল (এসএসসি), রাজধানীর তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে আলিম (এইচএসসি) সম্পন্ন করেন। ২০১৫-১৬ সেশনে মাহফুজ আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই তিনি সিনেমা ও সাহিত্য নিয়ে একাধিক কাজ করেছেন। নিয়মিত পাঠচক্র করার পাশাপাশি অনিয়মিত ম্যাগাজিন প্রকাশের সাথেও জড়িত থেকেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির একজন ছিলেন মাহফুজ আলম। ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন মাহফুজ আলম।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষার সাথে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠন নিয়ে কথা বলেছেন মাহফুজ আলম। সংক্ষিপ্ত আকারে সেসব কথা এখানে তুলে ধরা হলো :
বাসস : আপনার কাছে কোন কোন ঘটনা জুলাই অভ্যুত্থানকে অনিবার্য করে তুলেছিল?
মাহফুজ আলম : আওয়ামী লীগ এমন একটা রাষ্ট্রীয় বিভাজন সামনে এনেছিল, যেখানে রাষ্ট্রকে হয় ইসলামিস্ট না হয় সেক্যুলার করার একটা দৃশ্য দেখানো হয়েছিল। এসব বিভাজনের আড়ালে মূলত ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কুক্ষিগত করা হয়েছে। ২০১৫ সালে বিএনপির অসহযোগ আন্দোলন আর আওয়ামী সরকারের দমন নিপীড়নের মাধ্যমে ‘বিরোধী দলের অস্তিত্বহীন’ একটা স্টাইলে বাংলাদেশকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিরোধীদল শূন্যতার প্রেক্ষাপটেই দেখতে হবে ভ্যাট আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। তার পর ডাকসু নির্বাচন। আমরা যদি ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই তিনটি বিগ ইভেন্ট হিসেবে ধরি, তাহলে ১৮ সালের রাতের নির্বাচনের পর ধীরে সুস্থে একটা ঘটনা ঘটছিল। আর সেটা হলো, মুজিববাদী সংগঠনগুলোর বাইরে তরুণদের একটা ডেমোক্র্যাটিক প্রেসার গ্রুপের আবির্ভাগ ঘটছিল।
নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির বাইরে থাকলেও তারা কিন্তু আসলে একটা পলিটিক্যাল ফ্রন্টই ছিল, যা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি।
যেহেতু ১৮ সালের আন্দোলনে অংশ নেয়া কলেজে পড়–য়া ছেলেমেয়েরাই চব্বিশের অভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল, তাই তাদের কাছে গত কয়েক বছরের আওয়ামী দুঃশাসনের চিত্রটা চোখের সামনে পরিষ্কার দৃশ্যমান ছিল। ফলে এই আন্দোলনে রাজনৈতিক সচেতনভাবে তাদের অংশ নেয়াটা সহজ ছিল। এর বাইরেও যে আন্দোলনের কথা উল্লেখ না করলেই না, তা হলো সীমান্ত হত্যা বিরোধী আন্দোলন।
ভারতের আগ্রাসনের কারণে যে সীমান্তে অহরহ হত্যাকাণ্ড হচ্ছে, হাসিনা যে একটা পুতুল সরকারে পরিণত হয়েছিল- এই আন্দোলনটা ভারতের এই ভয়ঙ্কর আগ্রাসনের বিষয়গুলো প্রথম জনসমক্ষে এনে দিলো।
অন্য দিকে বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে ২০১৩ থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত ছিল শিবির সন্দেহে পিটিয়ে মেরে ফেলার একটি কালচার বজায় রাখা হয়েছিল। আবরার ফাহাদের শাহাদতের পর এটা অনেকটা কমে আসে। আবরার ফাহাদের শহীদ হওয়ার ঘটনাটা আমাদের ভেতর বড় একটা সংবেদনশীলতা তৈরি করেছিল। এক দিকে আওয়ামী লীগের এমন দানব হয়ে ওঠা, অন্য দিকে ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগ তৈরিকৃত বয়ানগুলোকে ধরে ধরে প্রতিরোধ গড়ে ওঠা, সব মিলিয়েই একটি ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।
বাসস : ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বাইরে স্বৈরাচার পতনের বিকল্প কোনো উপায় কি ছিল?
মাহফুজ আলম : সত্যি বলতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন বা রাজনীতি করে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগকে নামানোর কোনো উপায় ছিল না। কারণ গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নির্বাচনব্যবস্থাকে আওয়ামী লীগ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট করে দিয়েছিল, ২০১৮ সালে নির্বাচনে গিয়ে বিএনপি প্রতারিত হয়েছিল। তা ছাড়া বিরোধী দলের অস্তিত্বকে বিলীন করে দেয়ার মাধ্যমে আসলে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা থেকে নামার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছিল।
বাসস : এর আগের আন্দোলনগুলো সফল না হওয়ার একটা বড় কারণ ছিল ‘মতানৈক্য’। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানে কিভাবে ভিন্ন আদর্শের মানুষেরা এক হয়ে গিয়েছিল?
মাহফুজ আলম : সত্যি বলতে কি সব আন্দোলনেই কম্প্রোমাইজিং এলিমেন্ট থাকে। এই আন্দোলনে ছিল না তা না; বরং এই আন্দোলনেও কম্প্রোমাইজিং বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা সাত-আট বছর ধরে ক্যাম্পাসে অ্যাক্টিভিজম করার কারণে কম্প্রোমাইজিং বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা জানতাম। আর প্রতিটি জায়গায়ই কিছু কম্প্রোমাইজিং চরিত্র থাকে, আমরা তাদের চিনতাম। তাই এবার শুরুতেই আমরা বিষয়টি নিয়ে কনসার্ন ছিলাম এবং যেসব জায়গায় মতানৈক্য থাকতে পারে তা আমরা আগেই ডিল করে ফেলেছিলাম।
কিছু মানুষ তো ছিলই যারা বিভাজন তৈরি করতে পারত, তবে আমরা আর সেই সুযোগ রাখেনি। তাই স্বাভাবিকভাবেই গণ-অভ্যুত্থানের দিকে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে পেরেছিলাম।
বাসস : আমরা দেখতে পাই জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা বেশির ভাগ ছাত্ররাই সাংস্কৃতিক একটা বোঝাপড়া ছিল। কেউ হয়তো নিয়মিত পাঠচক্র করতেন, কেউ বই নিয়ে রিভিউ করতেন, কেউবা ম্যাগাজিন বের করতেন। সাংস্কৃতিক বোঝাপড়াটা এই অভ্যুত্থানে কেমন প্রভাব ফেলেছিল?
মাহফুজ আলম : এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ আলাপ। আমি কিন্তু কথাই শুরু করেছিলাম বিভাজন নিয়ে। সাংস্কৃতিক বিভাজন যে কত শক্তিশালী, তার প্রমাণ তো ১৩ সালে দেখতেই পাই। কালচারালি আপনি দেশটাকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলেছিলেন।
ফলে আমাদের এমন একটা গ্রুপের দরকার ছিল, যারা সরাসরি ইসলামিস্টও না, আবার যারা ইসলামোফোবিকও না। সে ক্ষেত্রে একটা মধ্যপন্থার দরকার ছিল। আর এই মধ্যপন্থাটা আমরা খুঁজে পেয়েছিলাম মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে, কলেজ-ভার্সিটির ছেলেমেয়েদের মাঝে, এমনকি গ্রাম ও শহুরে জীবনযাপন করা মানুষের মাঝে। আর এর মাধ্যমেই বৈচিত্র্যপূর্ণ মানুষের একটা ঐক্য ঘটেছিল।
তখন আমরা ভাবছিলাম, জিনিসটা কিভাবে করা যায়। কী এমন ম্যানিফেস্টো তৈরি করা যায়, যাতে একটা গ্রুপ নিয়ে আরেকটা গ্রুপের অস্বস্তি থাকবে না, আরেকটা গ্রুপ আদারিং ফিল করবে না, এসব নিয়ে আমরা বহুদিন ধরে কাজ করেছি। কিছু কাজ পেছনে হতো, কিছু অ্যাক্টিভিটি সামনে হতো। এ জন্য একেক সময় একেকজন সামনে থাকত।
কখনো আখতার (এনসিপির সদস্য সচিব) সামনে থাকত, কখনো আকরাম (এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব), অথবা কখনো সামনে থাকত নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। এরা সবাই আসলে আমাদের একই সার্কেলের ছিল, প্রয়োজন অনুযায়ী একেক সময় একেকজন সামনে আসত। যেমন নাহিদ ইসলাম পলিটিক্যাল সার্কেলে তেমন পরিচিত ছিল না। আগে সে ডাকসুতে সংস্কৃতি সম্পাদক হিসেবে দাঁড়িয়েছিল। তার পর সে আড়ালে চলে যায়।
নাহিদ আমাদের সাথে যুক্ত ছিল, নিয়মিত বইটই পড়ত কিন্তু সে সময় পলিটিক্যালি এতটা মুভ করেনি।
আসিফ (স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা) পলিটিক্যাল অ্যাক্টিভিজম করত। অন্য দিকে আরেকজন শোয়েব আবদুল্লাহ চলে গেল গবেষণায়। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী সে সময় এ বি পার্টিতে জয়েনও করেছিল। এসব ব্যক্তি কিন্তু ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন উপায়ে এলে একই কাজ করছিল, একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক মধ্যপন্থার উপায় খুঁজছিল।
বাসস : তাহলে আন্দোলনে নাহিদ ইসলাম কিভাবে সামনে এলেন?
মাহফুজ আলম : নাহিদ ইসলাম পলিটিক্যালি তখন ফ্রেশ একটা ক্যারেক্টার ছিল। যদি আখতার সামনে আসত, তাহলে এটাকে আওয়ামী বিরোধী মুভ হিসেবে দেখানো হতে পারে বলে আমরা আখতারকে সামনে আনিনি। আমি যদি সামনে আসতাম, তাহলে আমিও চিহ্নিত হয়ে যাবো আর পেছনের কাজগুলো করতে পারতাম না। আসিফ মাহমুদও প্রথম দিকে কিছু সঙ্গত কারণে সামনে আসতে চায়নি। আকরাম একসময় ক্যাম্পাসে বেশ পরিচিত ছিল। কিন্তু সে ২০২৩ সাল থেকে ব্যবসায়ে যুক্ত থেকে ক্যাম্পাস থেকে সরে গিয়েছিল। কিন্তু আমরা এদের সবাইকে রেখে নাহিদকে সামনে আনলাম।
বাসস : কিন্তু জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে তো জনমনে অনেক ধরনের প্রতিক্রিয়া আছে। এ ব্যাপারে কি আপনি আশাবাদী?
মাহফুজ আলম : আমাদের একটা স্পিডি ট্রায়াল দরকার ছিল। যেখানে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় খুন, গুম ও দুর্নীতির সাথে জড়িতদের সাজা দেয়া। কিন্তু সমস্যা হলো, বিচারব্যবস্থাও স্বৈরাচারী শাসন আমলে ভেঙে দেয়া হয়েছে। যেসব বিষয়ের ওপর বিচার ও তদন্ত দাঁড়িয়ে আছে, সেসব প্রতিষ্ঠানকেও নষ্ট করা হয়েছে। তাই যখন বিচার শুরু হলো, তখন প্রত্যাশার চেয়েও ধীরগতির হয়েছে।
কিন্তু তবুও এসব সঙ্কট পেরিয়ে কিছু সমাধান আনার চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন দুটো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, শুধু সরকার না; আমার ধারণা নাগরিকরাও বিচারপ্রক্রিয়া সহজ করতে হেল্প করছে। আশা করি দ্রুতই জুলাইয়ে শহীদ হওয়া পরিবার ও দেশবাসী দৃশ্যমান বিচার দেখতে পাবেন।
বাসস : সবশেষ জানতে চাই, গণ-অভ্যুত্থানের এক দফা দাবি ঘোষণার সময় নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের যে আকাক্সক্ষার কথা বলা হয়েছিল, আমরা কি অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সেই আকাক্সক্ষার দিকে এগোতে পেরেছি?
মাহফুজ আলম : সত্যি বলতে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তখনই সম্ভব যখন বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও চর্চার সংস্কার হবে। এখন আপনি আগের মতো নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে তো আর নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত আনতে পারবেন না।
এ বিষয়ে আপনাকে একটা গল্প বলি। ভারত রাষ্ট্র গঠনের পর নেহরু যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন বিরোধী দল বলতে আসলে কিছুই ছিল না। নেহরুর সুযোগ ছিল ডিক্টেটর হয়ে ওঠার, যেহেতু বিরোধী বলতে কেউ নেই। কিন্তু নেহরু ক্ষমতায় এসেই জয়প্রকাশ নারায়ণকে ডাকলেন এবং বললেন তোমরা একটা শক্তিশালী বিরোধী দল তৈরি করো, আমরা সাহায্য করব। তিনি একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংস্কৃতিটা জারি রাখতে চেয়েছিলেন। অন্য দিকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের পর শেখ মুজিবেরও একই অবস্থা ছিল, কিন্তু তিনি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগটা গ্রহণ করেননি। মুজিববাদী রাজনৈতিক দলগুলো একই পন্থায় দেশ চালাতে চাইছে।
এখন আপনি যদি বিরোধী দল বা পক্ষকে সম্মান না জানান, তাদেরকে একটা শক্ত অবস্থানে আসতে না দেন, তাহলে রাষ্ট্র কি সঠিকভাবে দাঁড়ায়? বিরোধী দলকে নিয়ে রাজনীতি করবে এরকম রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে খুব কম, বললেই চলে। একজন ছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া। তাকে হাসিনা ভয়াবহ রকমের আক্রমণ করেছে, কুরুচিপূর্ণ কথা বলেছে। কিন্তু ওই অর্থে বেগম খালেদা জিয়া প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি। সমস্যা হলো, এই কালচারটা বাংলাদেশের পলিটিক্সে তৈরি হয়নি।
এখনো দেখতে পাই, কোনো দলই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলকে স্পেস দিতে চায় না। আপনি যদি এটি জারি রাখেন, তাহলে তো আর রাজনৈতিক সংস্কার হলো না। গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোকেও বিদ্যমান রাজনৈতিক চর্চার বাইরে নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে বলে আমি মনে করি।



