হরমুজ প্রণালী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নতি স্বীকার করছে না ইরান

সিএনএন বিশ্লেষণ

Printed Edition

এক মাসের নীরবতার পর চলতি সপ্তাহে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা এবং জর্দান, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের পাল্টা জবাবের মাধ্যমে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। বড় সামরিক সঙ্ঘাত এড়াতে উভয় পক্ষ দৃশ্যত বেসামরিক অবকাঠামো এড়িয়ে সীমিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালালেও এই সামরিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সর্বাত্মক অর্থনৈতিক চাপ এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার মার্কিন কৌশল তেহরানের কাছে অগ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠায় তারা পিছু না হটে সঙ্ঘাতে অনড় অবস্থান নিয়েছে।

সঙ্ঘাতের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই দেশের বৈপরীত্যমূলক কৌশল। মার্কিন প্রশাসন সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে সর্বাত্মক অবরোধ ও প্রণালীর ওপর নৌ-নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে তেহরানের তেল রফতানি ও অর্থনীতি পুরোপুরি ধসিয়ে দিতে চাইছে। জবাবে ইরান তাদের সস্তা ড্রোনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের বিপুল খরচ সাপেক্ষ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড ও প্যাট্রিয়টের অর্ধেকেরও বেশি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র খরচ করিয়ে সামরিক চাপ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনীতি এবং অস্ত্রের মজুদ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আত্মসমর্পণকে তারা নিজেদের রাজনৈতিক পতনের কারণ মনে করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের পূর্ব শর্তে ফিরে না আসা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব বজায় রাখতে অনড় রয়েছে তেহরান। এদিকে দীর্ঘায়িত হতে থাকা এই সঙ্ঘাতের রেশ সরাসরি গিয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে। অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ও জীবনযাত্রার খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি প্রকাশিত ইউম্যাস আমহার্স্টের জরিপে দেখা গেছে, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আমেরিকান ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা তার সমর্থন কমিয়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। তেলের বাজার স্বাভাবিক রাখতে দেশটির স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে তেল ছাড়ে ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে কৌশলগত জ্বালানি মজুদ। পেন্টাগনের সামরিক কমান্ডাররাও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সার্বিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কায় দীর্ঘমেয়াদি সঙ্ঘাত নিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন।