বড়দিনের আনন্দে রঙিন দামুড়হুদার খ্রিষ্টান পল্লী

Printed Edition

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

আর মাত্র দু’দিন পরই বড়দিন। খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ও বাঘাডাঙ্গা খ্রিষ্টান পল্লিতে এখন উৎসবের রঙ। যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে ঘরে ঘরে চলছে আনন্দের প্রস্তুতি, সাজসজ্জা ও অতিথি আপ্যায়নের ব্যস্ততা।

এই দুই পল্লীর রাস্তাঘাট, গির্জা ও আশপাশের এলাকাগুলো এরই মধ্যেই বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে। বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি, ঝলমলে আলোয় আলোকিত করা হয়েছে উপাসনালয়। অনেক পরিবার মোবাইল বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বজনদের বড়দিনের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। সন্ধ্যার পর আলো-ছায়ার মেলায় পুরো এলাকা যেন এক টুকরো উৎসবগ্রামে পরিণত হয়। কার্পাসডাঙ্গা ও বাঘাডাঙ্গায় রয়েছে চারটি গির্জা, ক্যাথলিক, চার্চ অব বাংলাদেশ, প্রেসবিটারিয়ান এবং বেথলেহেম এজি চার্চ বাংলাদেশ। প্রতিটি গির্জায় বড়দিন উপলক্ষে বিশেষ উপাসনা ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গির্জার ভেতরে যীশু খ্রিষ্টের জন্মকাহিনি তুলে ধরে তৈরি করা হয়েছে নান্দনিক দৃশ্যায়ন। প্রাঙ্গণে নির্মাণ করা কুড়েঘরে স্থাপন করা হবে শিশু যীশু, মাতা মেরি ও যোসেফের প্রতিকৃতি, যা শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

উৎসবের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। বড়দিন সামনে রেখে কার্পাসডাঙ্গা বাজারে তৈরী পোশাক, শাড়ি ও উপহারের দোকানগুলোতে বেড়েছে কেনাকাটার চাপ। ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন ডিজাইনের পোশাকে দোকান সাজানো হয়েছে এবং এবার বিক্রি আগের চেয়ে ভালো। বাঘাডাঙ্গার গৃহবধূ কিরণ গামেজ বলেন, বড়দিন মানেই পরিবার ও আত্মীয়দের মিলনমেলা। অতিথি আপ্যায়নের জন্য পিঠা, কেক ও ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরির প্রস্তুতি চলছে। অনেক প্রবাসী ও শহরে থাকা স্বজন এ সময় গ্রামে ফিরে আসেন।

যীশু হৃদয় ক্যাথলিক গির্জার রেভারেন্ড ফাদার বাবুল বরাগী জানান, এবছরের বড়দিনের প্রতিপাদ্য শান্তি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। নয় দিনব্যাপী ‘নভেনা’ প্রার্থনার পর ২৪ ডিসেম্বর রাতে প্রধান উপাসনা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে ক্রাইস্ট চার্চ বাংলাদেশের প্রধান উপাসনা হবে ২৫ ডিসেম্বর সকালে। উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ জানায়, খ্রিষ্টান পল্লী ও গির্জা এলাকায় ইউনিফর্মধারী ও সাদাপোশাক বাহিনীর সমন্বয়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে বড়দিনের আনন্দ শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হয়।