বিশেষ সংবাদদাতা
৫১৯ কোটি ৩৭ লাখ ৭২ হাজার টাকার চিনি, পরিশোধিত সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২৫ হাজার মেট্রিকটন চিনি কিনতে ব্যয় হবে ১৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা, দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কিনতে ২৮২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার মেট্রিকটন মসুর ডাল কিনতে ব্যয় হবে ৭৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ভিয়েতনাম থেকে এক লাখ টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চালও কেনা হচ্ছে। প্রতি কেজি চালের দাম পরবে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা।
গতকাল বুধবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিনি, তেল, মসুর ডাল ও চাল কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ২৫ হাজার মেট্রিকটন চিনি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়। প্রতি মেট্রিকটন চিনির দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১৪ মার্কিন ডলার। এ ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে ১৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ২২ হাজার ৫০০ টাকা। চিনি সরবরাহের জন্য সুপারিশ করা দরদাতা ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি চাহয়া এনার্জি।
একই বৈঠকে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ক্রয়ের প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি লিটারের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ১৫০ মার্কিন ডলার। সয়াবিন তেল সরবরাহের জন্যও সুপারিশ করা দরদাতা ইন্দোনেশিয়ার পিটি ট্রিনিটি চাহয়া এনার্জি।
এ দিকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের জাতীয় পদ্ধতিতে দুই কোটি লিটার পরিশোধিত পাম অয়েল দুই লিটারের পিইটি বোতলে ক্রয়ের একটি প্রস্তাব বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তাবটি সভার আলোচনা থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ফলে এ প্রস্তাবের কোনো ক্রয়মূল্য অনুমোদন বা সুপারিশ করা হয়নি।
বৈঠকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্রের জাতীয় পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিকটন মসুর ডাল ৫০ কেজির বস্তায় ক্রয়ের প্রস্তাবও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এ ক্রয়ে মোট ব্যয় হবে ৭৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। প্রতি কেজি মসুর ডালের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ টাকা ৯৬ পয়সা। মসুর ডাল সরবরাহের জন্য সুপারিশ করা দরদাতা রাজশাহীর পবা উপজেলার দাওকান্দি এলাকার নাবিল নাবা ফুডস লিমিটেড।
ভিয়েতমান থেকে আসছে এক লাখ টন সিদ্ধ চাল
ভিয়েতনাম থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পর্যায়ে এক লাখ মেট্রিকটন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৫১৫ কোটি চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ফলে প্রতি কেজি চালের দাম পড়বে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ভিয়েতনামের ভিয়েতনাম সাউদার্ন ফুড করপোরেশন (ভিনাফুড-২) থেকে এই চাল আমদানি করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা ভিয়েতনামের হো চি মিন শহরের কাও খো ওয়ার্ডের ৩৩৩ ট্রান হুং দাও।
চাল আমদানিতে মোট ব্যয় হবে ৫১৫ কোটি চার লাখ ৯৬ হাজার টাকা। এক মেট্রিকটনে এক হাজার কেজি (এক লাখ মেট্রিকটনে হয় ১০ কোটি কেজি)। এ হিসাবে প্রতি কেজি চাল কিনতে ব্যয় হচ্ছে ৫১ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি মেট্রিকটন চালের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪১৬ মার্কিন ডলার।


