আর মাত্র দুই দিন পরই শেষ হবে গ্রন্থমেলা। একেবারে শেষ সময়ে এসে মেলায় পাঠক বাড়লেও বইয়ের চড়া দাম নিয়ে তাদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বলছেন, বইয়ের মান ও প্রকাশনা না বাড়লেও গত বছরের চেয়ে এবারো দাম বেড়েছে। যে বইয়ের দাম ১০০ টাকা হওয়ার কথা সেই বইয়ের দাম আড়াই শ’ টাকা। এভাবে কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই প্রতি বছর বাড়ানো হচ্ছে বইয়ের দাম। এতে বই কিনতে এসেও বাজেটে কাটছাঁট করছেন ক্রেতারা।
যদিও এ নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির কোনো তথ্য নেই। তবে প্রকাশকরা দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, কাগজ, কালিসহ উৎপাদন উপকরণের দাম এবং পরিবহন খরচ বাড়ায় মেলায় বইয়ের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার কারণে বইয়ের দাম বাড়াতে তারা বাধ্য হয়েছেন ।
একাধিক প্রকাশক বলছেন, দাম বৃদ্ধিতে তারাও বিব্রত। তবে অনেকটা নিরুপায় হয়ে এমনটা করতে হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, কাগজ ও মুদ্রণ খরচ বাড়ায় বইয়ের দাম আগের চেয়ে চড়া, যা অনেক পাঠকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। একাধিক স্টল ঘুরে দেখা গেছে, গত বছরের চেয়ে এবার প্রতিটি বইয়ে দাম ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। তবে এবার মেলায় ভিন্নতা হলো একাধিক নান্দনিক স্টলে দেশের ‘ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বার্তা’ তুলে ধরা হয়েছে। পাঠক সমাবেশ, বাংলা প্রকাশ, নবকথনসহ আরো বেশ কয়েকটি প্রকাশনীর সাজগোজে অতীতের গৌরবময় ঘটনাবলি, সংস্কৃতি, শিল্প এবং জীবনধারাকে বর্তমান প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মন্দিরের গেট দিয়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের স্টলটি। এই স্টলে জুলাই গণ-অভ্যুথানে আহতদের ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে। তবে মূল থিমে দেখা যায় ৫ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জনতার উল্লাসের চিত্রটি। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্টলে বইয়ের কাটআউট আর ‘আলোকিত মানুষ চাই’ লেখা চোখে পড়ে দূর থেকেই।
মেলায় প্রথমা প্রকাশন নিয়ে এসেছে আল্লামা ইকবালের কবিতা। ইকবালের দর্শন বা চিন্তাধারাকে গ্রহণ করা যাক বা না যাক, তার কবি-প্রতিভাকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যদিও এ দেশে রাজনৈতিক বিতর্কের আড়ালে বলা যায় তার কবি পরিচয়টিই চাপা পড়ে গেছে। ইকবালের কবিতার এই নির্বাচিত সংকলনটি অনূদিত উর্দু ও ফারসি কবিতার বড় অংশটি নেয়া হয়েছে উর্দু কবি ফয়েজ আহমদ ফয়েজের নির্বাচন থেকে।
বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান রচিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় গ্রন্থ হলো ‘অবাক বাংলাদেশ : বিচিত্র ছলনাজালে রাজনীতি’। এটি প্রথম ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রথমা প্রকাশন থেকে বইটি প্রথম প্রকাশিত হয়। বইটিতে বাংলাদেশের রাজনীতির বিবর্তন, শাসনব্যবস্থার সঙ্কট এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে রাজনীতির যে বৈপরীত্য, তা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এর প্রকাশক শোভা প্রকাশ নিয়ে এসেছে ড. তারেক শামসুর রেহমানের ‘বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর’ দুই খণ্ডের কালেকশনটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাস ও বিবর্তনের একটি আকর গ্রন্থ।
নারীদের তাফসিরুল কুরআন। লেখক মুহাম্মাদ হাবীবুল্লাহ। এর প্রকাশক রাহনুমা প্রকাশনী। নারীদের তাফসিরুল কুরআন মূলত কুরআনে বর্ণিত নারী-সংক্রান্ত সব আয়াতের একটি সহজ ও সংক্ষিপ্ত তাফসির সংকলন। নারীদের জীবনকে কুরআনের আলোয় গড়তে এটি একটি বিশেষ সহায়িকা হিসেবে কাজ করে। বইটিতে পবিত্র কুরআনের যেসব আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সরাসরি নারীদের সম্বোধন করেছেন বা নারী-সংক্রান্ত আলোচনা করেছেন, সেগুলোর সহজ ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
গতকাল বেলা ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : এম শমশের আলী শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। আলোচনায় অংশ নেন ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। সভাপতিত্ব করেন আরশাদ মোমেন। বিকেল ৪টায় ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আজ মেলা বেলা ২টায় শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।



