ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এ’-তে টিকে থাকার লড়াইয়ে আজ রাত ১০টায় আটলান্টায় মার্সেডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে চেক রিপাকলিক ও দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করায় দুই দলের জন্যই এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি। নতুন ফরম্যাটে সেরা তৃতীয় দল হিসেবেও নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারানো যেকোনো দলের পথ কঠিন করে দিতে পারে। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে দুই দল।
দীর্ঘ ২০ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা চেক প্রজাতন্ত্র শুরুটা করেছিল আশাব্যঞ্জকভাবেই। ইউরোপিয়ান প্লে-অফে ডেনমার্ককে টাইব্রেকারে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা দলটি দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার খুব কাছেও চলে গিয়েছিল। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে ভøাদিমির কাউফালের লং থ্রো থেকে লাদিস্লাভ ক্রেইচির হেডে এগিয়ে যায় চেকরা এবং তখন মনে হচ্ছিল বিশ্বমঞ্চে প্রত্যাবর্তনটা স্মরণীয় হতে যাচ্ছে। কিন্তু সেই লিড ধরে রাখতে পারেনি তারা। দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে, সমতা ফেরানোর পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিজেদের হাতে নেয়। শেষ পর্যন্ত ৮০ মিনিটে হজম করা গোলে ২-১ ব্যবধানে হারতে হয় চেকদের। এই পরাজয় শুধু বিশ্বকাপে হতাশাজনক সূচনাই নয়, তাদের টানা ছয় ম্যাচের অপরাজিত ধারারও সমাপ্তি ঘটিয়েছে। পাশাপাশি শেষ পাঁচ ম্যাচে ক্লিন শিট না রাখতে পারা রক্ষণভাগ নিয়েও চিন্তা বাড়িয়েছে।
চেক কোচ মিরোস্লাভ কৌবেক এই ম্যাচেও তার পরিচিত ৩-৪-২-১ ফরমেশনে থাকার সম্ভাবনা বেশি। মাঝমাঠে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক তোমাস সৌচেক, যার শারীরিক উপস্থিতি ও বল দখলে রাখার ক্ষমতা দলের জন্য বড় শক্তি। দুই উইংয়ে ভøাদিমির কাউফাল ও জারোস্লাভ জেলেনির আক্রমণ-রক্ষণ ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ডিফেন্ডার ক্রেইচি সাম্প্রতিক সময়ে সেট-পিস থেকে ধারাবাহিক অবদান রেখে আসছেন, আর সামনে গোল করার দায়িত্ব থাকছে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার পাত্রিক শিকের ওপর।
অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে আরো কঠিনভাবে। সহ-আয়োজক মেক্সিকোর বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে হারের ম্যাচে দলটি শুধু ফলেই পিছিয়ে ছিল না, শৃঙ্খলা ও ভুল সিদ্ধান্তের মূল্যও দিতে হয়েছে। মাঝমাঠে বল হারানোর পর প্রথম গোল হজম করে বাফানা বাফানা, এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্পেপেলো সিথোলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ম্যাচের শেষ দিকে থেম্বা জোয়ানের বহিষ্কার পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে তোলে এবং ৯ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। এই কারণে কোচ হুগো ব্রুসকে বাধ্য হয়েই একাদশে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন দলকে কিভাবে নতুন করে সাজানো যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথম ম্যাচের ব্যাক ফাইভ থেকে সরে এসে তারা ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ফিরতে পারে। মাঝমাঠে জয়ডেন অ্যাডামসের সাথে থালেন্তে এমবাথাকে দেখা যেতে পারে, আর আক্রমণে একক স্ট্রাইকার হিসেবে খেলতে পারেন লাইল ফস্টার। দুই পাশ দিয়ে গতি আনার দায়িত্ব পেতে পারেন অ্যাপোলিস ও মোরেমি। যদিও দলটি টানা ছয় ম্যাচ ধরে জয়হীন, তারপরও দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে একটি পরিসংখ্যান, বিশ্বকাপে ইউরোপিয়ান দলের বিপক্ষে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে তারা ২০১০ সালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল।



