তিন জেলায় আরো ৫৬ জনকে ‘পুশইন’ করল বিএসএফ

Printed Edition
পঞ্চগড় সদর থানায় বিএসএফের পুশইন করা নারী, পুরুষ ও শিশুরা : নয়া দিগন্ত
পঞ্চগড় সদর থানায় বিএসএফের পুশইন করা নারী, পুরুষ ও শিশুরা : নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে সোমবার গভীর রাতে এবং মঙ্গলবার ভোরে ৫৬ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, পঞ্চগড় সদর উপজেলার পৃথক দুই সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নারী-শিশুসহ ২৬ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। গত সোমবার রাতের আঁধারে তাদের পুশইন করা হয়। গতকাল ভোরে পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে পুশইন করা ৯ জনকে আটক করে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। পরে তাদের বিজিবির ঘাগড়া বিওপি ক্যাম্পের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়া হয়। অন্য দিকে একই উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের খুনিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে পুশইন করা আরো ১৭ জনকে আটক করে বিজিবির শিংরোড বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা। পরে বিজিবি মোট ২৬ জনকে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আটক ২৬ জনের মধ্যে ৮ পুরুষ, ৯ জন নারী ও ৯ জন শিশু রয়েছে। আটককৃতরা ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ভারতের হরিয়ানায় কাজ করতেন। সম্প্রতি তাদের আটক করে ভারতীয় পুলিশ বাগডোগরা বিমানবন্দরে এনে বিএসএফ সদস্যদের হাতে তুলে দেয়। গত সোমবার বিএসএফ রাতের আঁধারে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করে। আটককৃতদের বাড়ি কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায়। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল্লা-হিল-জামান বলেন, বিজিবি নারী ও শিশুসহ ২৬ জনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তারা বাংলাদেশী কি না তা নিশ্চিত করার পর আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁনশিকারী সীমান্ত দিয়ে আট জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

ভোলাহাট উপজেলার চাঁনশিকারী সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশের দিকে তাদের ঠেলে দেয় বিএসএফ। পরে তাদের আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে ৫৯ বিজিবি।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট থানার হোসেনভিটা ইউনিয়নের চাঁনশিকারী বিওপি’র সীমান্ত মেইন পিলার ১৯৯ এর কাছে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃতদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও চারজন নারী রয়েছেন।

তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়েছিলেন। পরে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে এবং মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রীয় জেলে রাখে। পরে তাদের বিএসএফ এর কাছে হস্তান্তর করে।

আটককৃতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর এলাকার মো: গোলামের ছেলে ফায়েজ (২৮) ও আব্দুর রহমান সরকারের ছেলে আজিম সরকার (২৫), খুলনা জেলার দিঘলিয়া থানার আমবাড়িয়া এলাকার আজিমুদ্দিনের মেয়ে মোসা: মিম খাতুন (১৯), ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার বেলদহী গ্রামের শফিরুদ্দিনের ছেলে রুস্তুম আলী (৪৪), রাজশাহী চারঘাট থানার চরমুক্তাপুর গ্রামের তোফাজ্জেল হোসেনের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৩৫), রাজশাহীর তানোর থানার হরিদেবপুর গ্রামের গোবরধন দাসের মেয়ে দুখী দাস (৫৫), নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কাঞ্চন রানীপুর গ্রামের আতিকুর রহমানের মেয়ে রতœা আকতার নুপুর (২২) ও বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ থানার বারইখালি গ্রামের ইব্রাহিমের মেয়ে নাদিরা খাতুন (৩৭)।

তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ভোলাহাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে বিজিবি ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

ময়মনসিংহ অফিস ও ধোবাউড়া সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্ত দিয়ে ২২ জনকে পুশইন করেছে ভারতীয় সীমন্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গত রোববার রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে তাদেরকে পুশইন করা হয়। এদের মধ্যে ১২ জন নারী, আটজন পুরুষ এবং দু’টি শিশু রয়েছে। ধোবাউড়া উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার সীমান্ত দিয়ে এক শিশু ও তিন নারীসহ ১২ জনকে পুশইন করা হয়। অপরদিকে হালুয়াঘাট উপজেলার সূর্যপুর সীমান্ত দিয়ে এক শিশু ও ৯ নারীকে পুশইন করা হয়। দুই জায়গায়ই পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের আটক করে বিজিবি।