ঢাবির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি

Printed Edition

রাজনৈতিক মতাদর্শ, মতপ্রকাশ বা শিক্ষক সংগঠনের সদস্যপদের ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ার দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস, ডেমোক্র্যাসি অ্যান্ড জাস্টিস (সিএইচআরডিজে)। সাম্প্রতিক সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি বলেছে, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে সুনির্দিষ্ট, ব্যক্তিনির্দিষ্ট ও প্রমাণযোগ্য অসদাচরণ থাকতে হবে। একই সাথে তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আইনসম্মত পদ্ধতি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে সিএইচআরডিজে বলেছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে রাজনৈতিক মতাদর্শ, মতপ্রকাশ, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা কিংবা অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্ত অথবা একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষক সংগঠনকে সামষ্টিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি ও এ-সংক্রান্ত তদন্ত নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শ, নাগরিক হিসেবে মতপ্রকাশ কিংবা বৈধ শিক্ষক সংগঠনের সদস্যপদকে নিজে থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কোনো সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সামষ্টিকভাবে নয়, ব্যক্তিনির্দিষ্টভাবে আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে।

বিবৃতিতে ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, একাডেমিক স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সংবিধানের ৩৮ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত সংগঠন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক অধিকারগুলোর প্রতিও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

সিএইচআরডিজে সাম্প্রতিক বরখাস্ত ও সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এবং শিক্ষক সংগঠন নিষিদ্ধের উদ্যোগ না নেয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মতাদর্শগত একরৈখিকতার ক্ষেত্র না বানিয়ে মুক্তচিন্তা, গবেষণা ও মতের বহুত্বের নিরাপদ পরিসর হিসেবে রাখার আহ্বান জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি।