চট্টগ্রাম ব্যুরো
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, ইতিহাসের বিভিন্ন যুগসন্ধিক্ষণে পরিচালিত অভিযান, বিক্ষোভ, অভ্যুত্থান ও বিপ্লব মূলত ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ বা সময়ের প্রয়োজনে অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধু সংবিধান দিয়ে সবসময় দেশ চলে না; বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ মেনে নিতে হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের নিজস্ব মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ম্যান্ডেট অস্বীকার করায় মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সে সময়ের ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’, যার মাধ্যমে আমরা লাল-সবুজের পতাকা পেয়েছি। একইভাবে দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে চব্বিশের রক্তক্ষয়ী বিপ্লবও বর্তমান সময়ের অপরিহার্য দাবি ছিল। এই বিপ্লবের মাধ্যমেই ‘দিল্লি না ঢাকা : ঢাকা ঢাকা’ স্লোগান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সমুন্নত হয়েছে।
তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধানের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন সংবিধানকে সত্যায়ন (অথেনটিকেশন) করতে ১৯৭০ সালের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ‘গণপরিষদ’ গঠন করা হয়েছিল। অনুরূপভাবে জুলাই সনদকে আইনি মর্যাদা দিতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করা হয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্যরা এই পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জুলাইয়ের শহীদদের অমর্যাদা এবং গণভোটের রায়কে অস্বীকার করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরবর্তী সংসদ অধিবেশনেই এর সমাধান করতে হবে, অন্যথায় আন্দোলনের বিকল্প থাকবে না।
নজরুল ইসলাম আরো বলেন, বাকশালী শাসন উৎখাত থেকে শুরু করে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ জিয়ার ক্ষমতা লাভ এবং ১৯৭৭ সালের গণভোট- সবই ছিল ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’। তিনি যুক্তি দেন, ‘আজকের গণভোট অস্বীকার করলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার শাসনই অবৈধ হয়ে যায়। কাজেই বাস্তবতা মেনে নিয়ে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই দেশ পরিচালনা করুন।’
চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- মহানগরীর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুছ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, ডা: এ কে এম ফজলুল হক, ডা: মুহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, আমির হোসাইন, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুন্নবী, অধ্যক্ষ মাওলানা জাকের হোসাইন, ড. আ ম ম মাসরুর হোসাইন প্রমুখ।



