রাজবাড়ী-২ আসনে মুখোমুখি বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থী

এম মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী
Printed Edition
রাজবাড়ী-২ আসনে মুখোমুখি বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থী
রাজবাড়ী-২ আসনে মুখোমুখি বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ী-২ (পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি) আসনে মূল লড়াই গড়ে উঠেছে বিএনপির প্রার্থী ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনে এই আসনে বিএনপিকে নিজ দলেরই এক সাবেক সংসদ সদস্যকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মোকাবেলা করতে হবে। এ আসনে বিএনপির দুই প্রার্থী ছাড়াও এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৯ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ীর দুটি আসনেই বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে অধিকাংশই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও রাজবাড়ী-২ আসনে বিদ্রোহী হিসেবে থেকে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুল হক সাবু। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেয়ায় তাঁকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিদ্রোহী প্রার্থী নাসিরুল হক সাবু ‘কলস’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সাবেক এই সংসদ সদস্য দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ হওয়ায় তাঁর পক্ষে একাংশ নেতাকর্মী ও ভোটারের সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল ভোটের লড়াই হবে।

দুই প্রার্থীকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। যদিও দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে ধানের শীষের পক্ষেই রয়েছেন। তবে ভোটারদের মতে, ব্যক্তি ইমেজ ও অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় এখানে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এ অবস্থায় বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

নাসিরুল হক সাবু বলেন, আমি এলাকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রার্থী হয়েছি। এখানে প্রতীক নয়, মানুষ ব্যক্তি দেখেই ভোট দেবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও রাজবাড়ী-২ আসনে ধানের শীষেরই জয় হবে। যারা বিদ্রোহীর পক্ষে কাজ করবে, তাদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।