রাজশাহী ব্যুরো
হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, জেলা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বস্তায় নিট ওজন থেকে পাঁচ কেজি বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত পদক্ষেপ নেয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল রাজশাহীর পবা উপজেলার তকিপুরে জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম ডনি। এ সময় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী শাহসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতা ও আলুচাষিরা উপস্থিত ছিলেন। ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোতে যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণের লক্ষ্যে পৃথক সুপারিশ কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন জেলার সুপারিশ কৃষি বিপণন অধিদফতরের মহাপরিচালকের দফতরে জমা হয়েছে।
রাজশাহী জেলা সুপারিশ কমিটির ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও হিমাগার মালিকদের অসহযোগিতার মধ্যেও কমিটি প্রায় একটি নিরপেক্ষ সুপারিশমালা দিয়েছে। সুপারিশের কয়েকটি বিষয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ভিন্নমত থাকলেও তারা তা মেনে নিয়েছেন। কমিটির প্রতিবেদনের ৮ নম্বর কলামে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত পাঁচ কেজি আলু বাদ দিয়ে প্রতি কেজি আলুর সংরক্ষণ ভাড়া পাঁচ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। দেশের অন্যান্য আলু উৎপাদনকারী জেলার প্রতিবেদনেও প্রতি কেজি আলুর ভাড়া গড়ে পাঁচ টাকা ২০ পয়সা উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরও হিমাগার মালিকদের অনড় অবস্থানের কারণে যৌক্তিক ভাড়া চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) নির্ধারিত বৈঠকে গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলে জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভাড়া দিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে কোনো অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায় হিমাগার মালিক পক্ষকে নিতে হবে।
দেশের আলু উৎপাদনে রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের গুরুত্ব তুলে ধরে ইফতেখারুল ইসলাম ডনি বলেন, দুই অঞ্চল মিলে দেশের মোট আলুর প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদন করে। অথচ হিমাগারে আলু সংরক্ষণের যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণে গঠিত জাতীয় কমিটিতে রাজশাহী ও রংপুরের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি।
তিনি দাবি করেন, এ দুই অঞ্চলের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সুপারিশ থাকলেও সর্বশেষ কমিটিতেও তাদের রাখা হয়নি। ফলে জাতীয় পর্যায়ে ভাড়া নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রাজশাহী ও রংপুরের কৃষক-ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বক্তব্য ও পরামর্শ দেয়ার সুযোগ মিলেনি।
কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জেলা সুপারিশ কমিটির সুপারিশের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে রাজশাহীর কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেবেন না। প্রয়োজনে তারা আন্দোলনের পাশাপাশি আইনগত লড়াইও চালিয়ে যাবেন। হিমাগার মালিকরা উচ্চ আদালতে গেলে কৃষকরাও তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হবেন।



