গুম প্রতিরোধ আইনে তদন্ত ও সাজার বিধানে অধিকারের উদ্বেগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সদ্য মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর কয়েকটি ধারা নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার। সংস্থাটি মনে করছে, প্রস্তাবিত এই আইনের কিছু দুর্বলতা গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। একই সাথে দোষীদের দায়মুক্তির পথ প্রশস্ত করতে পারে। গতকাল অধিকার থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩ অগাস্ট মন্ত্রিসভা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ অনুমোদন করেছে। আইনের ১৪ ধারা অনুযায়ী শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে পুলিশের ওপর।

অথচ বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় দৃঢ়ভাবে বলা যায় অভিযুক্ত বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ থাকলে পুলিশের তদন্ত কখনোই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে না। এতে পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা প্রকট থাকে। ফলে শৃঙ্খলা বাহিনী দায়মুক্তি ভোগ করবে। অন্য দিকে একই আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী তদন্তের ভিত্তিতে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা বিবেচিত হলে অভিযোগকারীর পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। ফলে তা বিচারহীনতার পথকে আরো প্রশস্ত করে ভুক্তভোগি ও তার পরিবারকে বিপদগ্রস্ত করে তুলবে।

পতিত শেখ হাসিনা সরকারের আমলের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অধিকার জানায়, সে সময় গুমের ঘটনায় পুলিশ জিডি পর্যন্ত গ্রহণ করত না। এমনকি বর্তমান সরকারের আমলেও মিরাজ শেখ নামে এক ব্যক্তির গুমের ঘটনায় পুলিশ গুমের পরিবর্তে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার জিডি করতে পরিবারকে বাধ্য করেছে।

উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারিকৃত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ এই ধরনের মামলার তদন্তের দায়িত্ব জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত ছিল। কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই অধ্যাদেশটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন না করায় তা বাতিল হয়ে যায়। এর পরিবর্তে বর্তমানে এই ‘দুর্বল’ আইনটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়ায় গুমের শিকার পরিবার ও মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

এ দিকে এক বিবৃতিতে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা পুলিশের হাতে না রেখে একটি স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অথবা গুমসংক্রান্ত একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করে তাদের ওপর ন্যস্ত করার দাবি জানিয়েছে অধিকার। এই সংশোধনীগুলো অন্তর্ভুক্ত করে তবেই আইনটি সংসদে পাস করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।