বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন এলাকায় জনবহুল স্থানে উন্মুক্তভাবে বৃহৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার স্থাপন করে যানবাহনে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখিত অভিযোগ করেছেন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও কনস্ট্রাকশন ব্যবসায়ী সুরুজ মোল্লা।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, রূপাতলী-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে ‘মেসার্স লিলি ফিলিং স্টেশন’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উন্মুক্তভাবে স্থাপন করে সরবরাহ করা হচ্ছে। এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সুরুজ মোল্লা তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, এলাকার পাশে রয়েছে ব্যস্ত বাস ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, বাজার, আবাসিক ভবন এবং একটি বড় মার্কেট। সামান্য একটি গ্যাস বিস্ফোরণও ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ গ্যাস আইন অনুযায়ী যদি জনগণের জীবন ও সম্পদ হুমকির মুখে পড়ে, তবে গ্যাস সরবরাহ স্থগিত বা সীমিত করার ক্ষমতা বিস্ফোরক কমিশনের রয়েছে। এ কারণে তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সদয় অবগতির জন্য তিনি এ বিষয়ে অনুলিপি পাঠিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, বরিশালের বিস্ফোরক পরিদর্শক এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের সহকারী পরিচালককে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের সময়োচিত পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই এলাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে বরিশালের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক বিনয় কুমার মণ্ডল বলেন, “এটা নিরাপদ দূরত্বে বসাতে হয়। শুরুতে তারা ২০ হাজার লিটারের ট্যাংক বসানোর পরিকল্পনা করেছিল, পরে ১০ হাজার লিটারের ট্যাংক বসানো হয়েছে। নকশার অনুমোদন রয়েছে, যা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ট্যাংকের চারপাশে দেয়াল নির্মাণ করে বালু দিয়ে ভরাট করতে হয়, যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে। তবে এখন পর্যন্ত আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দিচ্ছি। যাতে ট্যাংকটির নির্মাণ কাঠামো অনুযায়ী স্থাপন করে।”
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বরিশালের সহকারী পরিচালক হেলাল উদ্দিন খান বলেন, আমাদের দফতরে যদি এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসে, তাহলে তা যাচাই-বাছাই করে আমরা সরেজমিন পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।
মেসার্স লিলি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো: সোহেল বলেন, আমরা ট্যাংকটি এখনো চালু করিনি, কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দেয়াল নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে থেকে ট্যাংক স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। যে কোম্পানি আমাদের যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে, তারাই তাদের মতো করে পুরো কাজ পরিচালনা করছে।
তবে গত ১২ মে সরেজমিন দেখা যায় ট্যাংকটির চারপাশে কোনো দেয়াল নির্মাণের কাজ চলমান নেই। একেবারে উন্মুক্ত স্থানে ট্যাংক স্থাপন করে সেখান থেকেই এলপিজি গ্যাস বাজারজাত করা হচ্ছে।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, প্রতিদিনই তারা গ্যাস বিক্রি করে আসছিলেন। কিন্তু অভিযোগের বিষয়টি জানার পর গতকাল রোববার থেকে বিক্রি বন্ধ রেখেছেন।



