সাবেক স্পিকার হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর স্ত্রী-পুত্রসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Printed Edition

সিলেট ব্যুরো

জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার মরহুম হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর স্ত্রী-পুত্রসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে কানাডায় পাঠানোর নামে প্রতারণা, ভুয়া ভিসা-পাসপোর্ট তৈরি, অর্থ আত্মসাৎ ও বিদেশে মানবপাচারের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বিজ্ঞ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে (মোহাম্মদপুর আমলী আদালত) মামলাটি দায়ের করেন ডেমরা থানার হাজীনগর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মমিনুল হক।

মামলার আসামিরা হলেন- হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর স্ত্রী মেহজাবিন রশীদ চৌধুরী, ছেলে নোমান রশীদ চৌধুরী, তার স্ত্রী সাদিয়া বিলকিস চৌধুরী এবং ছেলে মাসুন নোমান রশীদ চৌধুরী ও মিনাল নোমান রশীদ চৌধুরী। তারা সবাই বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ১৯৯৮ সালে নোমান রশীদ চৌধুরী তার তৎকালীন রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রভাবের কথা জানিয়ে বাদির ছোট ভাই মো: মাসুদুল হককে অল্প খরচে কানাডায় পাঠানোর আশ্বাস দেন। পরে পাসপোর্ট, ভিসা ও অন্যান্য খরচ বাবদ আসামিরা কয়েক দফায় বাদির কাছ থেকে মোট চার লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন এবং মানি রসিদ দেন।

পরে অনিয়ম ও প্রতারণার মাধ্যমে জাল মালয়েশিয়ান পাসপোর্টের সাহায্যে বাদিকে না জানিয়ে তার ছোট ভাইকে হংকং হয়ে কানাডায় পাঠানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। ফলে হংকং ইমিগ্রেশন কর্তৃক মাসুদুল হক আটক হন এবং সেখানে তিনি দীর্ঘ চার মাস কারাদণ্ড ভোগ করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা ও পরবর্তী ক্ষতিপূরণসহ অর্থ ফেরত চাওয়ায় বাদিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি, প্রাণনাশের হুমকি ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালান অভিযুক্তরা। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে তখন আইনি ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি বলে বাদি জানান।

বাদি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর দেশে ফিরে চলতি বছরের ২৯ জুলাই টাকা ফেরত চাইতে গেলে আসামিরা আবার একযোগে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। ফলে সর্বশেষ এ বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন মোহাম্মদ মমিনুল হক।

মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বাদিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: আবুল কালাম খান।