বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস আজ

হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে ফিজিওথেরাপি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ মঙ্গলবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- ‘হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ফিজিওথেরাপি’। প্রতি বছর ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্বের ১৩১টি দেশে দিবসটি বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়। বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে। ফিজিওথেরাপি একটি স্বতন্ত্র, গবেষণালব্ধ ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি।

বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও প্রতিবন্ধিতার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা, চলন, কর্মক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ফিজিওথেরাপিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশে অসংক্রামক ব্যাধি ও স্নায়ুবিকাশজনিত জটিলতার বিস্তার, সড়ক দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধিসহ অন্যান্য নানাবিধ কারণে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ নানা ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার। জাতীয় পর্যায়ে সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে এ ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৩৮.৭ লাথ (১২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি.পর্যন্ত)। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির জীবনমানের প্রত্যাশিত উন্নয়ন ঘটিয়ে যথাসম্ভব কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে যথোপযুক্ত রিহ্যাবিলিটেশন সেবা প্রদান জরুরি।

বাংলাদেশে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট ইত্যাদি পেশাজীবীদের স্বীকৃতি প্রদান ও মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ যেমন- বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি), বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিল ইত্যাদি রয়েছে। তেমনিভাবে স্বাস্থ্য সেবার গুরুত্বপূর্ণ শাখা রিহ্যাবিলিটেশন পেশাজীবীদের মান নিয়ন্ত্রণ ও স্বীকৃতি প্রদানের জন্য বিআরসি গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, ফিজিওথেরাপি আধুনিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থার একটি অপরিহার্য অংশ। বিশেষ করে হৃদরোগ, স্ট্রোক, পঙ্গুত্ব ও বিভিন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত ফিজিওথেরাপি সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্টের পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ অত্যন্ত জরুরি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের সব সরকারি হাসপাতালে দুইজন করে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা সরকারের এই প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করি।

বিপিএর সাধারণ সম্পাদক ড. মো: ফিরোজ কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল (বিআরসি) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিজিওথেরাপি পেশাকে একটি আইনগত ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কাউন্সিল ইতোমধ্যে ফিজিওথেরাপিস্টসহ সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। আমরা নিবন্ধন কার্যক্রম দ্রুত, স্বচ্ছ ও সহজতর করার পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের জন্যও দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানাই।