কিয়েভে তীব্র বিমান হামলা, নিহত ৯

Printed Edition

রয়টার্স ও ডয়চে ভেলে

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার নজিরবিহীন বিমান হামলায় কমপক্ষে ৯ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। গতকালের (শনিবার) এই ভয়াবহ হামলায় দেশটির একাধিক অঞ্চলের আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ধ্বংসযজ্ঞের মুখে পড়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। বিগত দুই মাসে ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জাতীয় অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে। পাল্টা জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ জ্বালানি কেন্দ্র ও গুদামে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষই মুখোমুখি হয়েছে সমুদ্রপথে পণ্যবাহী জাহাজে আঘাত হানার কৌশলে।

গতকাল সকাল থেকে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫০০টি ড্রোন প্রয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, রণক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাফল্য না পেয়ে রাশিয়া এখন যুদ্ধের পরিধি ইউক্রেনের অর্থনীতির ওপর সম্প্রসারিত করেছে। মূল উদ্দেশ্য- সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অবকাঠামো ভেঙে দেয়া এবং সার্বিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করে জাতীয় প্রতিরোধ দুর্বল করা। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা জাপোরিজিয়া, দানিপ্রো এবং ক্রিভি রিহের প্রধান প্রধান ইস্পাত কারখানা ও শিল্প কমপ্লেক্সে নিখুঁত আঘাত হেনেছে। তবে স্বতন্ত্র কোনো সূত্রে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ক্রেমলিন নিয়ন্ত্রিত পূর্ব দোনেৎস্কের রুশ কর্মকর্তারা জানান, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাত সেখানে তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে।

ফ্রন্টলাইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোর্স্কে বেসামরিক যানবাহনে রাশিয়ার বিমান হামলায় ৯০ মিনিটের ব্যবধানে তিনজন নিহত ও চারজন আহত হন। স্থানীয় কাউন্সিল জানিয়েছে, কোনো সামরিক লক্ষ্যবস্তু নয়, বরং নিত্যদিনের কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গাড়িকে নিশানা করা হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিমের ঝিতোমির অঞ্চলের জভ্যাহেল শহরে একটি মুদি দোকানে হামলা চালালে দু’জন নিহত হন। সেই সাথে দু’টি পেট্রলপাম্প ও একটি বিদেশী বিনিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জি-২০ সম্মেলনে বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ক্রেমলিনের

আসন্ন জি-২০ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সাথে সরাসরি বৈঠকে বসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তবে মস্কো সেই প্রস্তাব তাৎক্ষণিক খারিজ করে জানিয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক কেবল রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্য নিয়ে তিনি আগামী ১৪-১৫ ডিসেম্বর মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ সম্মেলনে পুতিনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।