রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান
আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পারলে দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে অনুদান দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টেক্সাসের ডালাসে আয়োজিত দলের নির্বাচনী সম্মেলনে বক্তৃতাকালে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, প্রতিনিধি পরিষদ ও সেটে রিপাবলিকান দল জয়লাভ করলে দেশের অসাধারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সফলতার সুবাদে প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকানদের এই অর্থ দেয়া হবে। তবে এই অনুদান গ্রহণের েেত্র একটি শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি জানান, প্রদত্ত অর্থ অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে ব্যয় করতে হবে।
তবে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ কিভাবে সংস্থান বা বণ্টন করা হবে, সে বিষয়ে তাৎণিকভাবে স্পষ্ট কোনো রূপরেখা প্রকাশ করা হয়নি। সম্মেলনের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ এই ভাষণে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রতিপদের ‘উগ্র কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ করেন এবং ইরানে পরিচালিত তার বিতর্কিত সামরিক অভিযানের পে যুক্তি তুলে ধরেন। সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, রিপাবলিকানরা বিজয়ী হলে সাধারণ জনগণও লাভবান হবে এবং প্রত্যেকে নির্ধারিত পাঁচ হাজার ডলার লাভ করবে। দেশের বর্তমান অর্থব্যবস্থার সুদৃঢ় ভিত্তির কারণেই এমন অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়া সম্ভব বলে জোর দাবি জানান তিনি।
প্রায় দুই ঘণ্টা দেয়া এই ভাষণে এমন প্রলোভনমূলক ঘোষণা আসার পর পরই প্রস্তাবটির নৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ভোটারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি নিজেকেই যেন ব্যালট পেপারের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়Ñ সেই আহ্বানও জানান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকেছে। ফলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলো থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বহু রিপাবলিকান প্রার্থীই এই সম্মেলনটি এড়িয়ে গেছেন। ডালাসের এই অনুষ্ঠান থেকে ট্রাম্প কোনো সুনির্দিষ্ট প্রামাণ্য তথ্য ছাড়াই দাবি করেন, আর্থিক অগ্রগতিসহ সব সূচকে তার দ্বিতীয় মেয়াদি প্রশাসনের প্রথম দুই বছর দেশটির ইতিহাসের সর্বাধিক সফল সময়কাল। একই সাথে নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে দেশ কী ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে, তা নিয়ে দীর্ঘ সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক আবহাওয়াকে একটি বিষাদময় ও অসুস্থ পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজম পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করার প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করেন। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এটিই রিপাবলিকান পার্টির প্রথম আনুষ্ঠানিক কনভেনশন। দলটির প্রত্যাশা ছিল এই আয়োজন নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন গতি আনবে, যদিও বিভিন্ন জরিপ ও পূর্বাভাসের মতে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে রিপাবলিকানরা। আমেরিকান জনগণের মাঝে ট্রাম্পের উত্তরোত্তর অজনপ্রিয়তা এখন দলীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে তার প্রতি সমর্থনের হার নেমে এসেছে প্রায় ৩৮ শতাংশে। এ কারণেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্মুখীন অনেক প্রার্থী দলীয় সম্মেলনে সশরীরে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের এই দীর্ঘ বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, আসন্ন নির্বাচনকে তিনি নিজের নেতৃত্বের ওপরই এক পরীার ত্রে হিসেবে গণ্য করছেন। সচরাচর মতার শীর্ষে থাকা প্রেসিডেন্টের দল মধ্যবর্তী নির্বাচনে সাফল্য পায় নাÑ এই ঐতিহাসিক সত্য উল্লেখ করে তিনি সেই ধারা ভাঙার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দাবি করেন বর্তমান প্রশাসন অত্যন্ত সফলভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ভোটারদের শেষবারের মতো তাঁকে ব্যালটে কল্পনা করার অনুরোধ জানিয়ে ট্রাম্প সতর্ক করেন যে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয় ঘটলে নাগরিকরা সীমান্ত নিরাপত্তা, কর ছাড়ের সুবিধা এবং অর্জিত সম্পদ হারাতে বসেছেন। সেেেত্র বিগত দুই বছর আগের মতোই পুরো দেশকে চরম নরকযন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।



