কালীগঞ্জের নিরাপদ সবজি গ্রাম

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

Location :

Kaliganj
Printed Edition
কালীগঞ্জের নিরাপদ সবজি গ্রাম
কালীগঞ্জের নিরাপদ সবজি গ্রাম

বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন করছেন গৃহিণীরা। পুরো গ্রামজুড়ে নিয়মিত উৎপাদন হচ্ছে নিরাপদ সবজি। গ্রামটি এখন নিরাপদ সবজি গ্রাম নামেই পরিচিতি লাভ করেছে। গ্রামের ৫২ জন গৃহিণী বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন ও বাজারজাত করছেন। সবজি সংরক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে প্রাকৃতিক ফ্রিজ। প্রতিদিনের ঘরের কাজের পাশাপাশি বাড়ির পাশে পতিত জমিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন তারা। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৪ নং নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মোস্তবাপুর গ্রামকে এখন বলা হচ্ছে নিরাপদ সবজির গ্রাম। ইতোমধ্যে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সবজি উৎপাদনকারীদের নাম দিয়ে সাইনবোর্ড ঝুলানো হয়েছে গ্রামের মাঝে। এই গ্রামটি কালীগঞ্জ শহর থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এখানে নিয়মিত উৎপাদন হচ্ছে কচু, আলু, শিম, বেগুন, লাল শাক, কলা, মিষ্টি কুমড়া, ওল, পুইশাক, করলা, পাকাকলা, কচুর লতি, পেঁপে, কাকরোলসহ হরেক রকমের সবজি।

মোস্তবাপুর গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের নারীরা ঘরের কাজের পাশাপাশি জৈব পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করেন। এ ছাড়া অনেকে তাদের বাড়িতে কেচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে নিজেদের জমিতে ব্যবহার করেন এবং অতিরিক্তটুকু বাজারজাত করেন। বাড়ির আঙিনায় পরিত্যক্ত জমিতে এসব সবজি উৎপাদনে কোনো কীটনাশক তারা ব্যবহার করেন না। কম্পোস্ট সার আর জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেই এগুলো উৎপাদন করেন। সবজি চাষ করে বাড়তি কিছু আয় হচ্ছে যা সংসারের কাজে লাগাতে পারছেন।

জৈব পদ্ধতিতে ও নিরাপদ উপায়ে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের সবজি নিয়মিত বাজারজাত করছেন। মনোয়ারা বেগম নামের একজন নারী পেশায় গৃহিণী হলেও তিনি একাধারে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও বিষমুক্ত সবজি, কম্পোস্ট ও জৈব বালাইনাশক উৎপাদক ও বাজারজাতকারী। তিনি একই গ্রামের আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী। তার বাড়িতে সপ্তাহের প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার এই সবজির হাট বসে। এই হাটের সবজি ক্রয় করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। মনোয়ারা বেগম জানান, প্রায় ৫০ জন গৃহিণীকে বাড়ির পাশে পতিত জমিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করার জন্য পরামর্শ দিই। তাদের উৎপাদিত সবজি কিনে পিকআপ অথবা বাসযোগে ঢাকায় পাঠাই।

কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র কৃষি অফিসার মাহবুবুল আলম রনি জানান, মোস্তবাপুর গ্রামসহ নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে জৈব পদ্ধতিতে নিরাপদ উপায়ে সবজি উৎপাদন বেড়েছে, যা পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটাতে দারুণ ভূমিকা রাখছে। সবাই বাড়িতে এভাবে চাষ করলে বাজারে নিরাপদ সবজির চাহিদা পূরণেও সহায়ক হবে।