আশরাফুল মামুন, মালয়েশিয়া
কোনো প্রকার পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গোপনে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রবাসী, বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক। সোমবার গভীর রাতের একটি ফ্লাইটে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেন তারা দুজন।
গতকাল দুপুরে দেশটির প্রশাসনিক রাজধানী মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানানের সাথে শ্রমবাজার ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক ও মাহদী আমিনের মালয়েশিয়া সফরের বিষয়টি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার কোনো মিডিয়া বা দেশ বিদেশের সরকারি ও বেসরকারি দফতর স্বীকার না করলেও এ বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী আর রামানান। গতকাল দুপুরে পুত্রাজায়ায় বৈঠক শেষে বাংলাদেশী সাংবাদিক সোহানুর রহমান মিস্টার রামানানকে বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হককে শুভেচ্ছা জানাই, উভয়ের সাথে শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে, আমরা কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ত করব সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। তিনি আরো বলেন, আমরা উভয় পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছেছি, আমরা কয়েকদিনের ভিতর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে কথা বলে শ্রমবাজার খোলার চূড়ান্ত ঘোষণা দিবো। তবে আগের এমওইউ সংশোধন হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, না এমইউ সংশোধন হবে না কারণ এটা ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ আছে। এ সময় পুত্রাজায়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
এ দিকে এই গোপনীয়তার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন মাইগ্রেশন ওয়েলফার নেটওয়ার্ক এমডব্লিউএন, গডঘ-এর প্রশ্ন, এই সফরগুলো এত নীরবে কেন হচ্ছে? কী এমন আলোচনা চলছে যা প্রবাসী শ্রমিক, তাদের পরিবার এবং দেশের জনগণ জানতে পারবে না? মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার কোনো ব্যক্তিগত বা গোপন বিষয় নয়। এটি লাখো বাংলাদেশী কর্মীর জীবন-জীবিকা, ভবিষ্যৎ এবং দেশের অর্থনীতির সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শ্রমবাজার নিয়ে যেকোনো আলোচনা, সমঝোতা বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
গডঘ সরকারের কাছে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করছে। প্রবাসীদের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে বন্ধ দরজার আড়ালে আলোচনা নয়, জাতির সামনে সত্য তুলে ধরুন।



