নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে ‘মুক্ত বিনিয়োগ নীতি’ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় এ পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।
সমিতির সভাপতি এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট শাহ মো: খসরুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, মুক্ত বিনিয়োগ নীতি ঘোষণা করা হলে বিদেশে পাচার করা এবং দেশে লুকায়িত অর্থ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এটি দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।সংবাদ সম্মেলনে খসরুজ্জামান দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে বলেন, বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উধাও হওয়া এবং অনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের ফলে দেশ আজ খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে। বিদেশী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়াতে হবে।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, আবাসনসহ আমদানি-রফতানি খাতে নতুন বিনিয়োগের ওপর কর মওকুফ করা প্রয়োজন। খসরুজ্জামান বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) যদি বিনিয়োগকৃত মূলধনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না তোলার নিশ্চয়তা দেয়, তবে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরে আসবে। এতে উৎপাদন বাড়বে, ডলারের সঙ্কট কমবে এবং নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারপারসন ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি মূলত দেশের সব বার অ্যাসোসিয়েশনের একটি নির্দলীয় ফেডারেশন হিসেবে পরিচিত।
খসরুজ্জামান সতর্ক করে বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪৬ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি থাকায় নবনির্বাচিত সরকার চরম আর্থিক চাপের মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিটি উপজেলায় ‘কর অফিসার’ নিয়োগ করে রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং শিক্ষা খাতে আমূল সংস্কারের জন্য দ্রুত ‘শিক্ষা কমিশন’ গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট সামছুল জালাল চৌধুরী, শেখ রেজাউল করিম এবং অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।



