শাপলা চত্বর গণহত্যা

সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী গ্রেফতার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে হেফাজতে নেয়। ডিবি জানিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার লতিফ সিদ্দিকীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হবে।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম তার গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। গত ২৭ জুলাই প্রসিকিউশন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও লতিফ সিদ্দিকীসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৫-৬ মে ঢাকা ও আরো চারটি জেলায় এই অভিযানের ফলে ৫৮ জন নিহত হন। এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীকে ১০ নম্বর আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

গ্রেফতার হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, বুধবার সকালে লতিফ সিদ্দিকী শাহবাগ থানায় দায়েরকৃত একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দেন। আদালত প্রাঙ্গণে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, শাপলা চত্বরের মামলায় তাকে গ্রেফতার করা না হলে তিনি আগামী সপ্তাহের রোববার বা সোমবার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করবেন। তিনি আত্মগোপনে থাকতে চান না এবং আইনি মোকাবেলা করার জন্য ব্যাগে নোটবুক ও কলম নিয়ে প্রস্তুত আছেন।

লতিফ সিদ্দিকীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের পতন শুরু হয় ২০১৪ সালে। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় তাকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ এবং আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন বগুড়ায় সরকারি জমি অবৈধভাবে বিক্রির মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দেয়। এ ছাড়া ২০২১ সালে টাঙ্গাইলে তার দখলে থাকা প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমি উদ্ধার করে প্রশাসন।

এর আগে ২৮ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মঞ্চ ৭১’ আয়োজিত এক সভায় তাকে ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেখানে উপস্থিত জনতা তাকে ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সহযোগী’ হিসেবে অভিযুক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সেই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়।

কলিমুল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন

চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মুস্তাঈন বিল্লাহ সাব্বিরকে হত্যাচেষ্টার মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকার মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, গত ২৮ জুলাই আসামি কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তর পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক মো: আবু সাঈদ। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো: জাকির হোসাইনের আদালত।

ওই আবেদনে বলা হয়, হাজতি আসামি কলিমউল্লাহ এই মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। বর্তমানে তিনি জেলহাজতে আটক থাকায় তাকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন। মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তকার্য সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কলিমউল্লাহকে এই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।