সড়ক রেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি ফেরত নেয়া হবে : ভূমিমন্ত্রী

Printed Edition

বাসস

রেল, সড়কসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অধীনে থাকা বিপুল পরিমাণ জমি যথাযথভাবে ব্যবহার না হলে তা ফেরত নেয়া হবে এবং অতীতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি অবৈধভাবে জমি দখল করে থাকে, তা আইনের আওতায় এনে ফিরিয়ে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো: মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, রেল, সড়কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনেক জমি অব্যবহৃত রয়েছে। আমরা এগুলো চিহ্নিত করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করব।

প্রসঙ্গত, শুধু রেলের প্রায় ৬২ হাজার একর জমির মধ্যে অব্যবহৃত প্রায় ৮ হাজার ৫৫৪ একর, অবৈধ দখল প্রায় ছয় হাজার ৭৫৪ একর এবং লীজ/ইজারা দেয়া হয়েছে ১৪ হাজার একরের বেশি জমি। গতকাল সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিজ দফতরে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমি রেজিস্ট্রেশন বিভাগকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে আইন, স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয় যুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, রেজিস্ট্রেশন ও নামজারি আলাদা থাকায় জালিয়াতির সুযোগ তৈরি হয়। আমরা চাই এই প্রক্রিয়াগুলো সমন্বিত হোক, যাতে জনগণ সহজে সেবা পায় এবং দুর্নীতি কমে আসে।

ডিজিটাল সার্ভের মাধ্যমে অতীতের সব অনিয়ম দূর হবে জানিয়ে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, যার জমি, সেই মালিকানা নিশ্চিত করা যাবে। এতে জালিয়াতি ও দ্বন্দ্ব অনেকাংশে কমে যাবে। দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম, জটিলতা ও দুর্নীতি দূর করে একটি স্বচ্ছ, জনবান্ধব ও আধুনিক সেবা কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, শতাব্দী প্রাচীন ব্যবস্থার নানা ত্রুটি কাটিয়ে ধাপে ধাপে একটি ডিজিটাল ও জবাবদিহিমূলক ভূমি প্রশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ আমল থেকে যে আইন ও প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, তার অনেকাংশ এখনো বহাল রয়েছে। ফলে, সাধারণ মানুষের কাছে ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়নি। আমরা সেই জায়গা থেকেই পরিবর্তন আনতে কাজ করছি।

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণকে শাসন করার জন্য নয়, বরং সেবা দেয়ার জন্য কাজ করছে। ভূমি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কল সেন্টার চালু, অনলাইন অ্যাপস চালু, জনগণকে সচেতন করা এবং দালাল ও অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি বলেন, আমরা চাই, একজন সাধারণ মানুষ যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ভূমি সেবা পেতে পারে। সেই লক্ষ্যেই আইন প্রণয়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ঐতিহাসিকভাবে যে হারে খাজনা নির্ধারিত হয়েছিল, তা বর্তমান বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে, এ বিষয়ে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা তৈরি করা হবে।

জলমহাল ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকৃত জেলেদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় জেলেদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জলমহাল ইজারা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ভূমি ধ্বংসের একটি নতুন হুমকি হিসেবে মন্ত্রী ‘ভেকু’ বা আধুনিক খনন যন্ত্রের ব্যবহারকে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত পুকুর খনন করে কৃষিজমি নষ্ট করা হচ্ছে, যা পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।তিনি জানান, এ বিষয়ে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।মাঠপর্যায়ে জবাবদিহিতা বাড়াতে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।