বিষ্টির দিনে
খান কাওসার কবির
রিনিঝিনি রিনিঝিনি ঝুমঝুমি বিষ্টি
বিষ্টির দিনে দেখি মজাদার লিষ্টি ।
বিষ্টির দিনে থাকে সুস্বাদু কাঁঠালও
তিন ঝুড়ি ফল দাদু কুরিয়ারে পাঠালো।
বোম্বাইয়া ফজলিও আম হাঁড়িভাঙ্গা
ছিল বারি মল্লিকা পাকা কামরাঙা।
লটকন ও জাম্বুরা জাম কলা আনারস
ছিল আরো লিচু পেঁপে জামরুলে ভরা রস।
রিনিঝিনি রিনিঝিনি ঝুমঝুমি বিষ্টি
বিষ্টির ফলগুলো টক ও ভারি মিষ্টি ।
ছোট্ট পৃথিবী
আয়াজ আহমদ বাঙালি
ব্যাগ-বই কাঁধে স্কুলে ছুটে বাবু
হাসির শব্দে বড়রা সব কাবু
মাটির গন্ধ গায় লাগিয়ে সু-দিনের পথ চলে
কাগজী নাও যতেœ বানায় ভাসায় বর্ষা-জলে!
চকলেট এবং গল্প নিয়ে কাটে ছোট্টবেলা
বেশ উৎসাহ নিয়ে খেলে লুকোচুরি খেলা
মায়ের কোলে যায় ঘুমিয়ে স্বপ্ন-ভরা মন
আকাশজুড়ে জ্বলে ওঠে তারা-আলাপন।
শিশু মাত্র পুষ্প যেমন নির্মল ভোরের গান
তাদের হাসি বায়না যত প্রভুর বিশাল দান।
শতনদীর দেশটা আমার
অপু বড়–য়া
শতনদীর দেশটা আমার নদীর সুখে হাসে
সবুজ সবুজ গ্রামের সারি নদীর দুটি পাশে
মেঘনা কুমার পদ্মা পশুর কর্ণফুলী গড়াই
নদী আছে তাইতো চাষি করতে পারে বড়াই।
এই নদীরই জলের ফলে ফসল ফলে মাঠে
সেই ফসলেই পরাণ বাঁচে সুখে জীবন কাটে
রূপসা তুরাগ নীল যমুনা চিত্রা মধুমতি
পায়রা কচা আগুনমুখী সুরমা বেগবতী।
ঢেউ দোলানো নদীর বাহার জোয়ার ভাটার খেলা
নদীর জলে নাও বেয়ে যায় মাঝির সারা বেলা
নদীর পাড়ে কাশের বনে হাওয়ার মাতামাতি
রাতের বেলা নীল জোনাকি জ্বালায় রঙিন বাতি।
বর্ষা বাদল
মজনু মিয়া
বৃষ্টি এলে ব্যাঙ নাচে
গান করে সুরে সুরে
জলে জলে ভেসে চলে
যায় ছুটে যায় দূরে।
বৃষ্টি এলে চারিদিকে
জলে জলে ভরে যায়
ছোট ছোট মাছে নেশা
খোকাখুকু সুখ পায়।
কলাগাছি ভুঁড়া চড়ে
লয় লুটে মজা লয়
কাগজি নাও ভাসায়
ভাসে জলে মন সয়।
বৃষ্টি পড়ে
চিত্তরঞ্জন সাহা চিতু
বৃষ্টি পড়ে ঝুমুর ঝুমুর
গানের সুর বাজে
ঝরা পাতা গাছগুলো সব
নতুন করে সাজে।
বৃষ্টি পড়ে মিষ্টি তালে
কাব্যি মন জাগে
উদাস মনে লিখতে লেখা
বড্ড ভালো লাগে।
বৃষ্টি পড়ে ফোঁটায় ফোঁটায়
খাল বিল সব ভরে
সব ভেসে যায় গাঁও গ্রামে
বাংলা টিনের ঘরে।
বৃষ্টি পড়ে সারা দেশে
ফোটে কদম ফুল
খিচুড়ি ভাত রাঁধতে তখন
হয় না মোটেও ভুল।
খোকার আবদার
আসাদ আহমেদ
মাগো,আমায় উড়তে কভু
দিও নাকো ভয়
ভয় পেলে মা কেমন করে
করব বিশ্ব জয়?
মেঘের দেশে যাব উড়ে
ইচ্ছে ডানা মেলে
আকাশটাকে আনব ছুঁয়ে
একটু সাহস পেলে।
বুক ফুলিয়ে পাড়ি দেব
অতল সিন্ধু জল
সাত সাগরের ঢেউয়ের সাথে
লড়বে আমার বল।
আশীর্বাদের হাতটি রাখো
সদা আমার মাথায়
সাহস পেলে ভাগ্য লিখব
জয়ের নতুন খাতায়।
ভাইটি আমার
রেজা কারিম
ভাইটি আমার রণাঙ্গনের যোদ্ধা
নানান কাজের নানান কিছুর বোদ্ধা
মিছিল মিটিং প্রতিবাদের সংজ্ঞা
দূরীকরণ করতে হবে মঙ্গা।
রাজপথেরই আল্পনাতে দক্ষ
সচেতনায় সুষম পরিপক্ব
জুলাই-আগস্ট বিপ্লবীদের সঙ্গী
কাজের মাঝে দেশপ্রেমিকের ভঙ্গি।
কণ্ঠে বাজে স্লোগানেরই বন্যা
ফ্যাসিস্ট রানী কারো খালা, বোন না
মাথায় বাঁধা পতাকা আর শক্তি
বুকের ভেতর জনগণের ভক্তি।
ভাইটি কেবল নয়তো আমার, সবার
এ মুখ যেন বাংলাদেশের কভার।
জুলাই মানে
মুহাম্মদ ইসমাঈল
জুলাই মানে চাতাল খুলে আবু সাঈদের বুক
জুলাই মাসে পানি লাগবে মীর মুগ্ধের মুখ
জুলাই মানে পিছনে পুলিশ সামনে স্বাধীনতা
জুলাই মানে শহীদ আনাসের চিঠির যত কথা।
জুলাই মানে যাত্রাবাড়ীতে লাশের সারি সারি
ইয়ামিনকে ফেলে দেয়া কিভাবে ভুলতে পারি
জুলাই মানে মায়ের কান্না বোনের করুণ সুর
জুলাই মানে স্বাধীনতা যাবে অনেক দূর।
অপরূপ সৃষ্টি
আবুল কালাম তালুকদার
শনশন বাতাসে
নেমে আসে বৃষ্টি
জানালার বাইরে
অপরূপ সৃষ্টি।
দুধ সাদা আকাশে
মেঘদল ভাসে
ঝিরঝির বাতাস
মনানন্দে হাসে।
ঝলমল রোদে
ফুটে কত ফুল
প্রকৃতির সবুজে
মনানন্দে ব্যাকুল।
পাতা
তাজ ইসলাম
পাতার ফাঁকে
কোকিল ডাকে
পাতার ফাঁকে টিয়া
পাতার ফাঁকে
দোয়েল শালিক
পাখি হলুদিয়া।
ফলের মিছিল
ফুলের হাসি
পাতার ফাঁকে ফাঁকে
পাতাবাহার
পাতার ফাঁকে
একটা চড়ুই ডাকে।
পাতার ফাঁকে
চাঁদ দিয়েছে
জোসনা ভরা উঁকি
পাতার ফাঁকেই
চাঁদকে দেখে
খুশি খোকাখুকি।
মাছের টোপ
কামরুজ্জামান দিশারি
খামির মানে মাছেরই টোপ
গেঁথে দিল বড়শিতে
তুমুল বেগে পড়ল সাড়া
মাছের পাড়া-পড়শিতে।
টোপ গাঁথিয়া ফেলল জলে
শুটকি মাছের গন্ধে
রুই, কাতলা টোপ গিলতেই
পড়ল ধরা ধন্দে!
কিসের এ টোপ? কেমনে বানায়
পিছনে কী রহস্য
দাদুর কাছে শিখেছে সে
বলল খোকন সহাস্য।
দুষ্টু কাক
শ্যামল বণিক অঞ্জন
দুষ্টু কাকে দিয়ে হানা
কেড়ে নিলো বকের ছানা
বকের বাসায় শোকের ছায়া
নিঠুর কাকের নেই তো মায়া!
এলোমেলো বকের বাসা
দুচোখ যেন জলে ভাসা
হারিয়ে গেছে আপন ভাষা
ভেঙেছে আজ স্বপ্ন আশা!



