লেংটার মেলা ঘিরে মাদক-অশ্লীলতার শঙ্কা, উদ্বেগে স্থানীয়রা

Printed Edition

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী এলাকার বদরপুর গ্রামে ১০৭তম লেংটার মেলা শুরু হচ্ছে ১৭ চৈত্র। সাত দিনব্যাপী এ মেলাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তবে মেলা শুরু হওয়ার আগমুহূর্তেই মেলার স্থান ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক কেনাবেচা, মাদক সেবন এবং নানা ধরনের অশ্লীল ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত পেয়ে স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন দেখা যায়, বেলতলী লঞ্চঘাট থেকে সাদুল্ল্যাপুর মোড় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দোকানপাট সংস্কার, অস্থায়ী স্টল নির্মাণ ও ভক্তদের থাকার ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। ইতোমধ্যে মাজার এলাকায় আশেকানদের উপস্থিতিও বাড়তে শুরু করেছে।

কথিত আছে যে, পীর ও সাধক হজরত শাহ সুফি সোলায়মান (রহ:) ওরফে ‘লেংটা বাবা’ ১৩২৫ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে ইন্তেকাল করেন। তার স্মরণে প্রতি বছর ১৭ চৈত্র থেকে ওরশ ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা ‘লেংটার মেলা’ নামে পরিচিত। এ মেলায় প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মেলাকে ঘিরে প্রতি বছরই কিছু অসাধু চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবারও শতাধিক গাঁজার দোকান বসানো হয়েছে এবং আফিমসহ বিভিন্ন মাদক প্রকাশ্যে বিক্রির প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি মেলার বিভিন্ন স্থানে অশ্লীল নৃত্যের আয়োজন করারও পাঁয়তারা চলছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

মাজারের পশ্চিম পাশে পুকুরপাড়, বাগান এলাকা ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন স্থানে প্রতি বছরই মাদক সেবন ও বিক্রির আসর বসে। এতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নেশাগ্রস্তদের সমাগম ঘটে, যা স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনের করেন এলাকাবাসী।

তালতলী গ্রামের বাসিন্দা গাজী এমদাদুল হক মানিক বলেন, লেংটার মেলার নামে যেভাবে মাদক ও অশ্লীলতা ছড়ায়, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে কিশোর-তরুণরা বিপথে যাচ্ছে। তিনি এ ব্যাপারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে মাজারের খাদেম মতিউর রহমান লাল মিয়ার দাবি, মাজারের ভেতরে কোনো অসামাজিক কার্যকলাপ হয় না। বাইরে কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে তা জানালে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, মাজার এলাকায় প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছেও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

মতলব উত্তর থানার ওসি মো: কামরুল হাসান বলেন, মেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলা পুলিশের নির্দেশনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, মেলাকে কেন্দ্র করে মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি ও অশ্লীলতা রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেয়া হবে।