সাইফুল আলম হিরন, সোনাগাজী (ফেনী)
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার একমাত্র সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ভবন নির্মাণকাজ দেড় বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ অসমাপ্ত রেখে পালিয়ে যাওয়ায় চার লক্ষাধিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়ে ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় হাসপাতালের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, সোনাগাজী সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অংশ হিসেবে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট ছয়তলা ফাউন্ডেশনের তিনতলা ভবন নির্মাণে ২০১৮ সালে ৯ কোটি ৬৯ লাখ ৫২৫ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় তলায় ড্রাইভার কোয়ার্টার, নিচতলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের সাবস্টেশন, অভ্যন্তরীণ সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ, গভীর নলকূপ স্থাপন এবং ১৯ শয্যার পুরনো তিনতলা ভবনের সংস্কারকাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
চুক্তি অনুযায়ী ১১ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্তে ২০২২ সালের ৬ জুন মেসার্স মনির অ্যান্ড জেএইচএম নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পায়। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও ২০২৪ সালের ৩১ মে দ্বিতীয় দফার মেয়াদ শেষ হয়। এরপর সরকার পরিবর্তনের পর গত ৫ আগস্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত কাজ রেখে সাইট ত্যাগ করে।
ঠিকাদার পালিয়ে যাওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিতভাবে বিষয়টি জানায়। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর নোয়াখালী অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকার দোলাওয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, প্রকল্পটি চতুর্থ অপির আওতায় ছিল এবং এর মেয়াদ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হওয়ায় কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। অসমাপ্ত অংশ নতুন করে ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত হলে পুনরায় কাজ শুরু হবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, মূল ভবন সময়মতো শেষ না হওয়ায় নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে অনেক চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিত থাকছেন না। কেউ কেউ পোস্টিং নিয়ে এসে কাক্সিক্ষত সেবা দিতে না পেরে বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। ফলে রোগীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সদর ইউনিয়নের রোকেয়া বেগম ও চরছান্দিয়া ইউনিয়নের রিনু বেগম বলেন, ডাক্তার সঙ্কট, নির্মাণকাজের ধুলো-বালি, অপর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: তৌহিদুল ইসলাম বলেন, মূল ভবন দীর্ঘদিন অসম্পন্ন থাকায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ও চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফেনী স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। জিও লেটার জারি হলে দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



