নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ২১৮ জন শিশু। শুক্রবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত) হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭৬৪ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দিকে সারা দেশে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরো ৭৩৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এক লাখ ৩৩ হাজার ৬৩৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সাথে এই সময়ে মোট ১৬ হাজার ৭৪০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এক লাখ ১৫ হাজার ৮৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে এক লাখ ১১ হাজার ৮৫৭ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।
সিলেট ব্যুরো জানায়, সিলেট বিভাগে হামের প্রকোপে আরো দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরো ৯১ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৯৪ জন।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ২৫৬ জন, হবিগঞ্জে ৯১ জন (এর মধ্যে দুইজন রুবেলা), মৌলভীবাজারে ৯০ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫১ জন শনাক্ত হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৯১ রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৩০ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সাতজন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১১ জন ভর্তি হয়েছে।
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২৯৪ রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১১৯ জন, ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৮৭ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১২ জন, নর্থ ইস্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজন, বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুইজন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট নগরীর মুন্সিপাড়া (সোবহানীঘাট) এলাকার এক বছর ছয় মাস বয়সী ইয়াসিন এবং অপরজন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার কবিরপুর এলাকার আট মাস বয়সী আনিসা। তারা দুইজনই শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে ১২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জে সর্বোচ্চ ৫২ জন, সিলেটে ৪৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১৪ জন মারা গেছে। মৃত ১২২ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয়জনের, আর হাম উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১১৬ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সাথে হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



