সম্প্রতি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত কুরআন অবমাননার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজের ৩২৫ জন শিক্ষক একটি বিবৃতি প্রদান করেছেন। গতকাল বুধবার দেয়া বিবৃতিতে বলা হয় :
‘আমরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল কর্তৃক পবিত্র কুরআনুল কারিম অবমাননার জঘন্য ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী সচেতনভাবে এবং আত্মতৃপ্তির ভঙ্গিতে দীর্ঘক্ষণ কুরআন পদদলিত করেছে ও নিজেই ভিডিও ধারণ করে তা প্রচার করেছে। এটি কেবল ধর্মীয় অবমাননা নয়, এটি অ্যাকাডেমিক ও নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করা এক ঘৃণ্য অপরাধ।’
তারা বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি, দেশের অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পরোক্ষভাবে ইসলাম চর্চাকে নিরুৎসাহিত করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক এক্টিভিটির (যেমন স্পোর্ট, ইয়োগা, সাইকোলজিক্যাল কাউন্সিলিং ইত্যাদি) জন্য নির্দিষ্ট এক্সপার্ট বা কোচ নিয়োগ দেয়া হলেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত নামাজের স্থানে ইসলামিক স্কলার বা ইমাম নিয়োগ অকল্পনীয় বিষয়ের মতো। ‘প্রেয়ার রুম’ নামে একটি কমন স্পেস থাকে যেখানে থিউরিটিক্যালি যেকোনো ধর্মাবলম্বী উপাসনা করতে পারে। একদিকে ক্লাসে হাদিস বা ইসলামী চিন্তার উদাহরণ আনায় শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে এলজিবিটি বা জেন্ডার আইডেন্টিটির মতো আইন বিরোধী ও সমাজ বিধংসী কনসেপ্ট পড়ানো হচ্ছে।’
তারা আরো বলেন, ‘একই সাথে আমরা সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে বাধ্য হচ্ছি। ইতোপূর্বে রাখাল রাহা কর্তৃক ইসলাম অবমাননার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ভূমিকা পরিলক্ষিত হয়নি।
শিক্ষকরা দাবি জানান, ‘ইউজিসিকে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। নর্থ সাউথসহ সব প্রাইভেট ভার্সিটির প্রশাসনিক কাঠামো ও অ্যাকাডেমিক পরিবেশে বিদ্যমান ইসলামোফোবিক ধারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত ও সংস্কার করতে হবে। সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্টের মতো ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধেও পলিসি গ্রহণ করতে হবে।
তারা বলেন, ‘আমরা আহ্বান জানাচ্ছি- কুরআন অবমাননার ঘটনায় দোষী ব্যক্তির সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করার সাথে সাথে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার এবং মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যেন শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা হয়।
বিবৃতি প্রদানকারী শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দা লাসনা কবির (লোক প্রশাসন বিভাগ), অধ্যাপক ড. এম ওলিউর রহমান (উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ), বুয়েটের অধ্যাপক ড. এম এম কারিম, বুটেক্সের অধ্যাপক ড. মো: মাসুম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো: এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী (ডিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদ), অধ্যাপক ড. মো: আতিয়ার রহমান (বায়োকেমিস্ট্রি এবং মলিকিউলার বায়োলজি), সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (দর্শন বিভাগ), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামীমা তাসনীম (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আবুল হাসনাত (রসায়ন বিভাগ)। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তারেক মুহাম্মদ তওফিকুর রহমান (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), অধ্যাপক ড. মোসাম্মৎ ইসমাত আরা বেগম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শামিমা নাসরিন জলি ((উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগ), ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যাপক ডা: মো: আসাদুর রহমান, অধ্যাপক (অবসরপ্রাপ্ত) ডা: মুহাম্মদ আকরাম হোসেন প্রমুখ।



