ক্রীড়া প্রতিবেদক
ফিফা র্যাংকিং এবং নিজস্ব মাঠ। এই দুই বিষয়ই এগিয়ে রেখেছিল ভিয়েতনামকে। তাদের ১০৩-এর বিপরীতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১। তবে বাংলাদেশ দলের কাছে এমন বাজে খেলা কেউই আশা করেনি। যে বাংলাদেশ দল সিঙ্গাপুর, হংকং ও ভারতের বিপক্ষে লড়াকু ম্যাচ উপহার দিয়েছিল কাল এর ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ফলে হ্যানয় স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ভিয়েতনাম। আসিয়ান অঞ্চলের এই দেশটির কাছে হারের ক্ষত নিয়েই বাংলাদেশ দল যাবে সিঙ্গাপুরে। সেখানে ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জামাল ভূঁইয়াদের শেষ ম্যাচ।
লাল-সবুজরা আগেই দুর্বল হয়ে যায় ডিফেন্ডার তপু বর্মন এবং ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন না থাকায়। কার্ড সমস্যায় তারা সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে খেলতে পারবে না। তাই তারা এই স্কোয়াডে নেই। কাল কোচ হাভিয়ার কাবরেরা একাদশেও পরিবর্তন আনেন। গোলরক্ষক পজিশনে কোচের এত দিন আস্থা মিতুল মারমাকে কাল একাদশে রাখা হয়নি। তার জায়গায় খেলানো হয় মেহেদী হাসান শ্রাবণকে। অথচ এই শ্রাবণ গত বছর এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলের পরই জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার কথা যোগ্যতা রাখছিলেন। কিন্তু কাবরেরা তাকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন। কাল একাদশে ইংল্যান্ড প্রবাসী হামজা চৌধুরীর সাথে কানাডা প্রবাসী শমিত শোম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী জায়ান আহমেদ, ইতালি থেকে আসা ফাহামিদুল ইসলাম এবং ফিনল্যান্ড প্রবাসী তারিক কাজীকে রাখেন। একাদশে চান্স দেয়া হয় ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলামকে।
তবে এই পরিবর্তিত দল কুলিয়েই উঠতে পারেনি। ফলে ম্যাচের ৮ মিনিট বয়সেই কাল নেতৃত্ব দেয়া সোহেল রানার দল পিছিয়ে পড়ে। কর্নার থেকে পাম থুন হেই গোল করেন। এই গোলের ধাক্কা সামলিয়ে উঠতে না উঠতেই ফের ১৮ মিনিটে গোল। এবার গোলের উৎস কর্নার নামের সেট পিচ। সেই শুয়ং তিয়েন হাইয়ের কর্নারে বাঁকানো শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পাম চুন মান। ৩১ মিনিটে বাংলাদেশ দলকে তৃতীয় গোলের হার থেকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক শ্রাবণ। নগুয়াইন হাই লংয়ের শটে বাধা এই দীর্ঘদেহী কিপার। তবে ৩৭ মিনিটে তিনি ঠিকই গোল করেছেন। দুই ফুটবলার তারিক কাজী ও ফাহামিদুলের বাধা টপকে বাম পায়ের মাটি ঘেঁষা শটে স্কোর ৩-০ করেন নগুয়াইন। শ্রাবণ বাম দিকে পুরো শরীর ফেলেও তা ঠেকাতে পারেনি।
বিরতির পর কোচ কাবরেরা মাঠ থেকে তুলে নেন মিরাজুল ও ফাহামিদুলকে। তাদের বদলে মাঠে আসেন শেখ মোরসালিন ও শাহরিয়ার ইমন। থাই কোচও তিন ফুটবলার বদল করেন বিরতির পরপরই। তবে রাইট ব্যাক পজিশনে সাদ উদ্দিন পারছিলেন না। ৬৮ মিনিটে তাকে তুলে বিশ^নাথকে নামানো হয়। এই সময়ে ফয়সাল আহমেদ ফাহিমকেও তুলে নেয়া হয় মাঠ থেকে। মাঠে আসেন সুমন রেজা। এতে বাংলাদেশের খেলায় গতি বাড়ে। তবে যুৎসই আক্রমণ শাণানো যায়নি।
বাংলাদেশ বিরতির পর হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে চড়াও হয়ে খেলতে থাকে। এতে কাউন্টার অ্যাটাকে চান্স সৃষ্টি করতে থাকে ভিয়েতনাম। তবে কপাল ভালো থাকায় আর গোল হয়নি। ৮৮ মিনিটে ডো হোয়াং হেনের শট সাউড পোস্টে লাগে। ৯১ মিনিটে পাম গিয়া হুংয়ের শটও প্রতিহত হয় ক্রসবারে। এতে বাংলাদেশ দল ০-৩ গোলেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ দল দু’টি হাফ চান্স পেয়েছিল। কিন্তু হামজা চৌধুরী বল ধরার আগেই ডিফেন্স কর্নার করায় এবং পরে শেখ মোরসালিন বার উচিয়ে শট মারায় বাংলাদেশ কোনো গোলই পায়নি।
বাংলাদেশ এর আগে ২০০১ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বিশ^কাপ বাছাই পর্বে ভিয়েতনামের কাছে ০-৪ গোলে হেরেছিল। যদিও আগের ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। আর গত বছর এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবলে ভিয়েতনাম ২-০তে হারিয়েছিল বাংলাদেশকে।



