শিক্ষামন্ত্রী স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ: সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ

Printed Edition
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জুলাই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি : নয়া দিগন্ত
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জুলাই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি : নয়া দিগন্ত

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা ও সোনারগাঁও সংবাদদাতা

শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনকে ‘স্ট্যান্টবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে এনসিপির জুলাই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সমাবেশ উপলক্ষে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের ওপর স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য রাখেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০২৬ সালের শিক্ষার্থীরা আপনাদের বুঝিয়ে দিচ্ছে, ওই স্ট্যান্টবাজি আর বাংলাদেশে চলবে না। এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের হাঁটু সমান পানিতে, বুক সমান পানিতে ডুবিয়ে ডুবিয়ে পরীক্ষা দিতে আপনি বাধ্য করেছেন। আপনি পরীক্ষার প্রশ্নের মধ্যে দুইটা সৃজনশীল ভুল দিয়েছেন। ভুল প্রশ্নে কেউ যখন উত্তর মেলাতে পারে না তখন একটা পরীক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা কেমন হয় আপনি চিন্তা করেন। আপনারা একটা দুঃখ প্রকাশ করারও প্রয়োজনবোধ করলেন না।

তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা এই শিক্ষার্থীদের মাদকাসক্ত বলছেন। শিক্ষামন্ত্রী, আপনি যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলেন, এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছে বলেই আজকে শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন। এই ফার্মের মুরগিরা রাস্তায় এসেছিল বলেই শিলং থেকে এসে সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়েছেন, লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রীত্ব করছেন।’

শিক্ষার্থীরা গিনিপিগ নয় বলে মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন। কিছুদিন পরপর নতুন নতুন জিনিস শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেন। এক্সপেরিমেন্ট ফেল করলে তা আবার তুলে দেন। কারণ আপনাদের সন্তানরা দেশে না বিদেশে লেখাপড়া করান। পরের সন্তানদের নিয়ে রাজনীতি করবেন, এক্সপেরিমেন্ট করবেন, এই বাংলাদেশে আর তা হতে দেবে না।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সাথে সংবেদনশীল আচরণের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘না হলে এ শিক্ষার্থীরা যদি রাস্তায় নেমে দৃঢ় অবস্থান নেয়, তাহলে আপনার পাটাতন যে শক্ত না তা এই অর্ধবেলার আন্দোলনে তা বোঝা গেছে।’

এ সময় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দেশে অবৈধ গ্যাসসংযোগ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরার সমালোচনা করে বলেন, ‘আরেকটা গ্রুপ রয়েছে ভূমিদস্যু, মাফিয়া গ্রুপ বসুন্ধরা। তারা শত শত মাইল জমি দখল করে নিচ্ছে। তাদের কিছু মাফিয়া মিডিয়া সন্ত্রাস রয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, ধর্ষকদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।’

‘নদী, খাল রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্য দিয়ে দখল হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা, ফুটপাথের হকার, রিকশাওয়ালা ভাইরা হাহাকারের মধ্যে রয়েছে। ২০০ টাকা ইনকাম করলে ৫০ টাকা বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলকে চাঁদা দিতে হয়, স্থানীয় এমপিদের চাঁদা দিতে হয়। এই চাঁদাবাজি আর চলবে না। এ চাঁদাবাজির যাত্রা অব্যাহত রাখলে মনে কইরেন না, বেশি দিন টিকতে পারবেন না। হাসিনার হয়তো ১৭ বছর লাগছে। আপনারা সত্যই বলেন যে, প্রতিদিন জুলাই হয় না, কিন্তু যেদিন হবে সেদিন পালানোর জায়গা পাবেন না।’

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত অঞ্চলে সরকারি সহায়তা পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম দেশের রাজস্ব খাতে বড় ভূমিকা রাখলেও তাদের জন্য কম বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিটি জায়গায় সরকার তাদের কমিটমেন্ট থেকে পিছু সরে এসেছে।

সংসদে সংবিধান সংস্কার কমিটি নিয়ে দেয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভের সাথে বললেন, সংবিধান সংস্কার কমিটি নাকি সংবিধানে নাই। এটা না থাকলে ২০২৬ সালের নির্বাচনও কোনো সংবিধানে ছিল না। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল ২০২৯ সালে, আপনার থাকার কথা ছিল শিলংয়ে, প্রধানমন্ত্রীর থাকার কথা ছিল লন্ডনে, নেতাকর্মীদের থাকার কথা ছিল ধানক্ষেতে, ঢাকার শহরে রিকশা চালানোর কথা ছিল। এই সংবিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমেছিল।’ ‘কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আপনারা ছাত্র-জনতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপি সরকার, আপনারা বুঝতে পেরেছেন আপনাদের পায়ের তলায় মাটি নেই’, বলেন হাসনাত।

এ সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার, মহানগরের আহ্বায়ক শওকত আলী প্রমুখ। এর আগে জুলাই পদযাত্রা করেন দলটির নেতাকর্মীরা।