রোজায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নানা পদক্ষেপ

রমজানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এই বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রতিটি ইউনিটকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ কেনা-কাটায় শপিংমল, বিভিন্ন মার্কেটের সামনে নজরদারি ও ব্যাংকগুলোর আশপাশে গোয়েন্দা নজরদারির পাশপাশি টহল কার্যক্রম বাড়ানো। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অজ্ঞান পার্টি, মলমপার্টি, টানাপার্টি, ছিনতাই প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম
Printed Edition

  • চুরি-ছিনতাই টানাপার্টি প্রতিরোধে ব্যবস্থা
  • শপিংমল ও ব্যাংকের সামনে বাড়তি নজরদারি

চলতি রমজানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ। ইতোমধ্যে এই বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রতিটি ইউনিটকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঈদ কেনা-কাটায় শপিংমল, বিভিন্ন মার্কেটের সামনে নজরদারি ও ব্যাংকগুলোর আশপাশে গোয়েন্দা নজরদারির পাশপাশি টহল কার্যক্রম বাড়ানো। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে অজ্ঞান পার্টি, মলমপার্টি, টানাপার্টি, ছিনতাই প্রতিরোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে কার্যক্রম বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

একই সাথে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় পুলিশি এক্টিভিটিস বাড়াতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কোনো ধরনের আক্রমণের শিকার না হয়। এ ছাড়াও গার্মেন্ট শিল্পকারখানাগুলোর শ্রমিকদের বেতন সংক্রান্ত বিষয়ও পুলিশকে নজরদারীতে রাখতে বলা হয়েছে। যাতে করে বেতনের দাবি নিয়ে কেউ রাস্তায় অরাজকতা সৃষ্টি করতে না পারে। ইতোমধ্যে এসব বিষয়ে কাজও শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সূত্র মতে, পবিত্র রমজান ও ঈদে মানুষের কেনাকাটা বেড়ে যায়। এতে মার্কেট শপিংমলে বেড়েছে মানুষের আনাগোনা। বেড়ে যায় নগদ টাকা বহন, বিভিন্ন মালামাল ক্রয়-বিক্রয়। ব্যাংকগুলোতে এক দিকে ব্যবসায়ীরা টাকা জমা রাখার কাজ করেন আবার ক্রেতারা টাকা উত্তোলন বেড়ে যায়। আর এই সুযোগ কাজে লাগাতে রমজান মাসে সক্রিয় হয়ে ওঠে ছিনতাইকারী, অজ্ঞানপার্টি, মলমপার্টি, টানাপার্টি সদস্যরা। তারা বড় বড় শপিংমল, মার্কেট ব্যাংকের সামনে ওঁৎ পেতে থাকে। এরপর সুযোগ বুঝেই অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনতাই করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

আবার কখনো রিকশা বা বাসে থাকা যাত্রীদের ব্যাগ মোবাইল ফোন টান দিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় টানাপার্টির সদস্যরা। পথচারীর চোখে মুখে মলম মেখে সবকিছু লুট করে মলম পার্টির সদস্যরা। অপর একটি গ্রুপের সদস্যরা বাসে বসে থাকা যাত্রী অচেতন করে হাতিয়ে নেয় তাদের মল্যবান জিনিসপত্র। আবার একটি চক্র রয়েছে যারা অনেক টাকার মাঝে চালিয়ে দেয় জাল টাকার নোট। রমজানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ যানজট নিয়ন্ত্রণ। একই সময়ে অফিস ছুটির পর পরিবারের সাথে ইফতার করতে সবার তাড়া থাকে বাসায় ফেরার। এতে রাস্তায় প্রচণ্ড চাপ পড়ে শুরু হয় যানজট।

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, রমজান মাসে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পুলিশ বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে। মসজিদ, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নাশকতা, চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি রয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

রমজানের নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো: নজরুল ইসলাম বলেন, মাহে রমজানে বিশেষ করে তারাবির সময় চুরি, ছিনতাই যাতে কোনোভাবেই সংঘটিত হতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সবাই কাজ শুরু করেছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) মো: সরওয়ার বলেন, রমজানে ইফতারের আগে ট্রাফিকে প্রচণ্ড চাপ বাড়ে। সেই সময়ে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যাতে জনসাধারণ নির্বিঘেœ বাসায় গিয়ে ইফতার করতে পারে। একই সাথে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য সর্বসাধারণদেরও অনুরোধ করেন তিনি।