কয়েক বছর আগেও আমির হোসেন সমতলে ধান আর পাহাড়ে সবজি চাষ করতেন। আজ তিনি খৈয়াছড়া ঝরনার পাশে একটি ঘরোয়া হোটেল চালান। স্ত্রী রান্না করেন, আর তিনি পর্যটকদের খাবার পরিবেশনের পাশাপাশি ক্যাশিয়ারের কাজ সামলান। শুধু আমির হোসেন নন; খৈয়াছড়া ঝরনাকে ঘিরে এমনভাবে বদলে গেছে শত-শত মানুষের জীবন।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের এই ঝরনাটি একসময় ছিল পাহাড়ের গহিনে লুকিয়ে থাকা নির্জন জলপ্রপাত। ফেসবুক ও ইউটিউবের কল্যাণে গত পাঁচ-ছয় বছরে ঝরনাটির সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। দিন দিন বাড়তে থাকে পর্যটকের ভিড়। সেই সাথে বদলে যেতে শুরু করে স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা।
পূর্ব খৈয়াছড়া গ্রামের শামসুদ্দিন দুই বছর আগেও অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কৃষিকাজ করতেন। ফসল ভালো হলে সংসার চলত, না হলে অভাব লেগেই থাকত। এখন তিনি স্ত্রীকে সাথে নিয়ে একটি ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন। হাঁস, মুরগি, মাছ ও ভাত রান্না করে বিক্রি করছেন পর্যটকদের কাছে। ব্যবসা ভালো হওয়ায় পাকা ঘর তুলেছেন, সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছেন।
রহিমা বেগম কৃষিকাজের পাশাপাশি বাড়ির উঠানে মোটরসাইকেল পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছেন। প্রতিটি বাইক রাখার জন্য ৫০ টাকা করে নেন। ছুটির দিনে তার আয় হয় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। আবার সবুজ আগে ছিলেন অনিয়মিত কাজের ইলেকট্রিশিয়ান। এখন পর্যটকদের জন্য কাপড় ও অ্যাংলেট বিক্রি করে স্বাবলম্বী।
খৈয়াছড়া ঝরনার পথে এখন গড়ে উঠেছে অন্তত ৩০টি হোটেল ও শতাধিক ছোট দোকান। কেউ বিক্রি করছেন বাঁশের লাঠি, কেউ শর্ট-প্যান্ট, কেউ পানি, সেদ্ধ ডিম কিংবা নাস্তা। গ্রামের তরুণদের কেউ কেউ পর্যটকদের গাইড হিসেবেও কাজ করছেন। স্থানীয়দের হিসেবে, ঝরনাকে কেন্দ্র করে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রত্যক্ষভাবে ব্যবসার সাথে যুক্ত। এতে নির্ভর করছে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষের জীবন। ব্যবসায়ী সবুজ বলেন, প্রতিদিন অন্তত ১০০ পর্যটক এখানে আসেন। ছুটির দিনে এই সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজারে পৌঁছে যায়। খৈয়াছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুজ্জামান বলেন, ঝরনাটি শুধু পর্যটন স্পট নয়, এটি স্থানীয় মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ খুলে দিয়েছে। একটি ঝরনা আজ খৈয়াছড়াকে বদলে দিয়েছে।



