ফেনী অফিস
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ একসাথে দু’টি রায় দিয়েছে। এর একটি মেনে বিএনপি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে অপরটি অস্বীকার করছে। ভোটের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেও হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। দেশে ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় দিয়েছে। আর বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে বলছে জুলাই সনদ নাকি সংবিধান পরিপন্থী। এতে প্রমাণ হয় বিএনপি মুখে জুলাই সনদের কথা বললেও অন্তরে তারা জুলাই চেতনা ধারণ করে না। তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গণভোটের গণরায় মেনে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিবেন না।
তিনি গতকাল সোমবার বিকেলে ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সুবিধাভোগী বিএনপি। এই আন্দোলনে সহস্রাধিক ছাত্র-জনতা প্রাণ দিয়েছেন। ৩০-৪০ হাজার মানুষের রক্ত ঝরেছে। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস ধরে দফায় দফায় বৈঠক করে ৮৪টি সংস্কারের প্রশ্নে ৩৭টি দল একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। তিনি বলেন, তখন সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ঐকমত্য পোষণ করেন। অথচ ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধান সংস্কার না করে বিএনপি সংবিধান সংশোধন করতে চায়। এই শুভংকরের ফাঁকি জনগণ মেনে নিবে না।
জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিএনপি সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধন করতে চায়। জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধীদলীয় নেতার কাছে প্রতিনিধি চেয়ে প্রস্তাবনা দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান পরিষ্কার বলে দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্য সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো কমিটিতে যাবে না। আমরা চাই জুলাই আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার করে এর কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে।
শহরের গ্র্যান্ড সুলতান কনভেনশন হলে জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা: ফখরুদ্দিন মানিক, কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য এ কে এম সামছুদ্দিন ও অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সভাপতি মাওলানা নাজমুল আলম, এনসিপির সদস্যসচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, বিডিপি সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইসমাইল, জাগপা জেলা সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, শহর শিবিরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা জামায়াতে নায়েবে আমির অধ্যাপক আবু ইউছুপ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির জেলা সদস্যসচিব ফজলুল হক।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বিএনপি কেবল জুলাই সনদ ই নয় বরং তাদের ঘোষিত ৩১ দফা থেকেও সরে গেছে। তিনি বলেন, একসময়ে একাত্তর নিয়ে ব্যবসা হয়েছে এখন জুলাই কে নিয়েও ব্যবসা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, জুলাই কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য নয়। জুলাই এর আকাক্সক্ষা ছিল দুর্নীতি ও বৈষম্যমুক্ত একটি নতুন বাংলাদেশ।



