দুই জেলায় ২ হাজার ২৭৭ বস্তা সার জব্দ : জরিমানা ও গুদাম সিলগালা

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

সার বাজারে কৃত্রিম সঙ্কট রোধ ও অসাধু মজুদদারদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। দিনাজপুর ও রাজশাহীতে পৃথক অভিযানে দুই দিনে দুই হাজার ২৭৭ বস্তা অবৈধভাবে মজুদ করা সার জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে তিন ডিলার প্রতিষ্ঠানকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দু’টি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। জব্দ করা সার কৃষকদের মধ্যে সঠিক মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।

খানসামা (দিনাজপুর) সংবাদদাতা জানান, দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট ও টংগুয়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক হাজার ৫৭৭ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়েছে। অনুমোদিত সীমার বাইরে সার মজুদ রাখায় তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা ও দু’টি গুদাম সিলগালা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার আদনান কবির উদয় ও ইউএনও কামরুজ্জামান সরকার। মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স থেকে ৪৫০ বস্তা সার জব্দসহ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপর দিকে ডিলারের অনুপস্থিতিতে পয়েন্ট চালানোর দায়ে মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ২০৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সমস্ত সার রাষ্ট্রীয় অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় অনুমোদনহীন সার মজুদের দায়ে মেসার্স রনি ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিশেষ অভিযানে ওই গুদাম থেকে মোট ৯২০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করা হয়। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানের মালিক ও বিএডিসির নিবন্ধিত সার ডিলার মোজাহারুল ইসলাম পালিয়ে যান। গুদামে তল্লাশি চালিয়ে ২৬০ বস্তা এমওপি ও ৬৬০ বস্তা ডিএপি সার উদ্ধার করা হয়। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ডিলারের চরম অনিয়মের কারণে এই আইনি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। জব্দ সার কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, আড়ইল গ্রামে এক কৃষকের বাড়ি থেকে প্রায় ৭০০ বস্তা অবৈধ সার জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বৃহস্পতিবার ইউএনও উম্মে হাবিবা এ অভিযান চালায়। জানা যায়, সাইদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বিভিন্ন ডিলারের কাছ থেকে সার কিনে নিজ বাড়িতে মজুদ করত এবং পরে কৃষকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করত। স্থানীয় কৃষকরা দীর্ঘদিন ধরেই এই কৃত্রিম সঙ্কটের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। ইউএনও জানান, অবৈধ মজুদ ও জড়িত ডিলারদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে, শিগগিরই দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।