জনপ্রিয় পাকিস্তানি গায়িকা ও মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব হাদিকা কিয়ানি ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে ক্ষতিগ্রস্ত বিধবা এবং এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এক বিশেষ মিশনে নেমেছেন। দীর্ঘ দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধে অন্তত ৬৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজার অসহায় মানুষদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে সফর করছেন। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা আল-খিদমত ফাউন্ডেশন এবং আঘোশ ইউকে-এর সাথে যৌথভাবে তিনি যুক্তরাজ্যের ছয়টি প্রধান শহরে চ্যারিটি ডিনার অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে তিনি এই সফরের বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করেন।
এই সফর শুরু হয়েছে ২৩ জানুয়ারি ম্যানচেস্টারে প্রথম ডিনার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। এরপর ২৪ জানুয়ারি লন্ডনে একটি বিশেষ আয়োজন এবং ২৫ জানুয়ারি নটিংহ্যাম ও বার্মিংহামে পৃথক দু’টি অনুষ্ঠান হয়েছে। সফরের শেষভাগে ২৬ জানুয়ারি পিটারবরো এবং ২৭ জানুয়ারি ব্রাডফোর্ডে তহবিল সংগ্রহের কাজ শেষ হবে। অনুষ্ঠানের টিকিট সাধারণ দর্শকদের জন্য ৪০ পাউন্ড এবং ভিআইপিদের জন্য ১৫০ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ জনের জন্য এক হাজার পাউন্ডে বিশেষ টেবিল বুকিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে এবং ছয় বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। তবে আয়োজকরা বিশেষভাবে জানিয়েছেন যে, এই অনুষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র মানবিক সচেতনতা ও তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সাজানো হয়েছে এবং এখানে হাদিকা কিয়ানি কোনো সঙ্গীত পরিবেশন করবেন না। হাদিকা কিয়ানির এই মানবিক উদ্যোগ নতুন কিছু নয়। ইতোপূর্বে ২০২২ সালের বন্যায় বেলুচিস্তানে তার নিজস্ব ফাউন্ডেশন ‘ওসিলা’র মাধ্যমে তিনটি গ্রাম পুনর্গঠন করে তিনি ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সমাজসেবায় তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিবিসি তাকে ২০২৪ সালের প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় স্থান দিয়েছে। এমনকি ২০২৫ সালের গ্রীষ্মে পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুনখাওয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝেও তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। বর্তমানে গাজায় তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চললেও ইসরাইলি বিমান হামলায় সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষের মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে। এমন সঙ্কটময় সময়ে গাজায় ক্ষতিগ্রস্তদের মুখে হাসি ফোটাতে হাদিকা কিয়ানির এই আন্তর্জাতিক তৎপরতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা পাচ্ছে।



