চট্টগ্রাম ব্যুরো
ডিবি পুলিশ পরিচয়ে চট্টগ্রাম নগরে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য সুমন চন্দ্র দাসসহ (৪২) ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণ এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো: মাসুদ রানা ওরফে বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০), পান্না রানী দাস (৩৮) ও বিবেক বণিক (৪২)।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৪ জানুয়ারি ভোর ৫টায় সবুজ দেবনাথ নামে এক ব্যবসায়ী দুই সহযোগীসহ একটি সিএনজিতে কোতোয়ালি থানাধীন সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেনের দিকে রওনা হন। পথে আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুইটি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় পাঁচলাইশ মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৪ ধারায় মামলা করা হয়। পাঁচলাইশ থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের যৌথ দল গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৮ জানুয়ারি বিকেলে গাজীপুরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকা থেকে সুমন চন্দ্র দাস, মাসুদ রানা ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করে, তার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছিনতাইটি সংঘটিত হয়। লুণ্ঠিত স্বর্ণ তার স্ত্রী পান্না রানী দাস অথবা তার চাচাতো ভাই রবি কুমার দাসের কাছে রাখা হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে রবি কুমার দাসকে ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকা থেকে এবং পান্না রানী দাসকে চট্টগ্রামের হালিশহর থানাধীন বড়পুল এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বণিককেও গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গতকাল ঢাকার মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন সিরাজ মিয়ার বিল্ডিংয়ের একটি বাসা থেকে ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।
ইপিজেডে ছিনতাই চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার
এ দিকে চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানা এলাকা থেকে এক লাখ টাকা ও দেশীয় অস্ত্রসহ সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলো- কফিলউদ্দিন (৩২) ও নূরউদ্দিন ওরফে সেকুল (৩৬)। গত বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ইপিজেডের মাদরাজী শাহ রোড এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে কফিল উদ্দিনের শ্বশুরবাড়ি সীতাকুণ্ড পৌরসভা এলাকা থেকে এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, বুধবার দুপুরে ইপিজেডের নেভী হাসপাতাল গেট এলাকা থেকে কফিরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে তিন লাখ টাকা উত্তোলন করেন। অফিসে যাওয়ার পথে কফিল ও নূরউদ্দিন তাকে পথরোধ করে মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেয়। ইপিজেড থানার ওসি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, গ্রেফতারকৃতরা সঙ্ঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং কফিল উদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।



