মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুর জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ক্রমেই উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম, সবখানেই আধিপত্য বিস্তার করে প্রায়ই সংঘর্ষে জড়াচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি শহরের পানিছত্র এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হন বাউল শিল্পী সজল বেপারী। দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করা হলে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। প্রায়ই কিশোর গ্যাংয়ের হামলা ও সংঘর্ষের সিসিটিভি ফুটেজ কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, শহরের বাদামতলা, ইউআই স্কুল রোড, আমিরাবাদ, বটতলা ও কলেজ রোড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সী কিশোররা একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক প্রভাব ও ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে। এসব সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তারা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালাচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে জেলায় অন্তত ৩০টি কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মামলা না হওয়ায় অভিযুক্তরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন আরমিন মোল্লা বলেন, ‘আইন আছে, কিন্তু তার প্রয়োগ নেই। নিয়মিত মামলা ও আইনি ব্যবস্থা নিলে কিশোর গ্যাং নির্মূল করা সম্ভব।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মামলা না হওয়ায় অনেক সময় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়। কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন জরুরি।



