জলবায়ু গতিশীলতা জোরদারে ইইউর ১.১২ কোটি ইউরো অর্থায়ন

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জলবায়ু গতিশীলতা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে এক কোটি ১২ লাখ ইউরোর একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদি ‘দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে জলবায়ু গতিশীলতার জন্য একটি সমন্বিত পদ্ধতির প্রসার’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বুধবার শেরেবাংলা নগরস্থ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সম্মেলন কক্ষে ইআরডি এবং আইওএম বাংলাদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও উইং চিফ (ইউএন উইং) এ কে এম সাহেল, যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান, ইআরডির সিনিয়র সহকারী সচিব মো: রাজিবুল আলম, আইওএম বাংলাদেশের জাতীয় কর্মসূচি কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান খান এবং সরকারি সংযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম মোরশেদ। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সহযোগী সংস্থার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

ইআরডি জানায়, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু-সম্পর্কিত বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন মোকাবেলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং কার্যকর নীতিগত সমন্বয় নিশ্চিত করা। এ ছাড়া তথ্য ও জ্ঞান বিনিময় সম্প্রসারণ, প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্থিতিস্থাপকতা তৈরিতে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ইআরডি সচিব মো: শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট মানব গতিশীলতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জলবায়ু অভিযোজন কৌশলের সাথে জলবায়ু গতিশীলতার বিষয়টি সমন্বিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বাংলাদেশ সরকার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পের প্রধান অর্থায়নকারী ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জলবায়ু কর্মসূচিকে আরো এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করবে।