গ্যাস সঙ্কটে উদ্বেগ

নির্বাচন কমিশনের দলীয় নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো: সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সাথে চলমান গ্যাস সঙ্কট নিরসনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেছে দলটি।

গতকাল পৃথক দু’টি বিবৃতিতে এসব দাবি জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

এক বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সংবেদনশীল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যার মূল ভিত্তি নিরপেক্ষতা ও জনআস্থা; কিন্তু নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে মো: সামসুল আলমকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, যিনি অতীতে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন এবং অবসরের পর দলটির একটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি দাবি করেন, অতীতে কেউ চাকরিজীবনে বঞ্চিত হয়ে থাকলে বিধি অনুযায়ী পদোন্নতি বা প্রাপ্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে অবসরের পর সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত একজন ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। তাই এ ধরনের নিয়োগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরো অভিযোগ করেন, এ নিয়োগকে বিএনপির অফিসিয়াল মিডিয়া সেল প্রচার ও উদযাপন করছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তিনি অবিলম্বে এ নিয়োগ বাতিল এবং ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশন-সহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সর্বজনগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

অন্য দিকে পৃথক বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দেশে গ্যাস সঙ্কটে নাগরিকদের দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এলপিজি ও সিএনজি গ্যাসের সঙ্কটে বাসাবাড়ির রান্না, সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ লাইনের কারণে বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে এবং জনভোগান্তি বাড়ছে।

তিনি দাবি করেন, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারণে এ সঙ্কট তৈরি হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সাথে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।

জামায়াত নেতা আরো বলেন, নাগরিকদের চাহিদা অনুযায়ী নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান ও খনন, বিদ্যমান কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানি নিশ্চিত করতে হবে। চলমান সঙ্কট দ্রুত নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও আহ্বান জানান তিনি।