সেনেগালিজদের ভুলের খেসারতে হলান্ডদের উল্লাস

Printed Edition

খেলা শুরুর আগেই দলবেঁধে মিছিল করতে করতে নিউ ইর্য়ক নিউ জার্সির ম্যাট লাইফ স্টেডিয়ামে আসতে থাকে নরওয়ের দর্শকরা। মাথায় ভাইকিং হেলমেট। গায়ে লাল জার্সি। ট্রেন থেকে নেমে তাদের এই মিছিলের সময় পুরো রাস্তা লাল বর্ণ ধারণ করেছিল। তাদের শরীরের ভাষাই বলে দিচ্ছিল ম্যাচটিতে তাদেরই হবে জয়। অন্য দিকে স্বল্পসংখ্যক সেনেগালের দর্শক ঢাকঢোল নিয়ে স্টেডিয়ামের সিকিউরিটির সবুজ সঙ্কেত পেয়ে গ্যালারিতে প্রবেশ করে। তবে শেষ পর্যন্ত জয়ই হলো স্ক্যান্ডেনিভিয়ান দেশটির। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপে টানা দুই জয় নিয়ে নরওয়ে চলে গেছে নকআউট পর্বে। তবে তাদের এই দ্বিতীয় জয়ে বিশাল অবদান সেনেগালের ডিফেন্স লাইনের। আফ্রিকান দেশটির ফ্রান্সের বিপক্ষে যেমন হাস্যকর ভুল করে গোল খাইয়েছে তেমনি দ্বিতীয় ম্যাচে নরওয়ের কাছেও। যে কারণে ২০০২ সালের কোয়ার্টর ফাইনালে খেলা দলকে এবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো। অন্য দিকে দুই খেলায় নামের পাশে ৬ পয়েন্ট জমা করে নরওয়েও এখন সেরা ৩২-এ।

নকআউট পর্বে খেলার জন্য এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না সেনেগালিজদের। আর নরওয়ের ৩ পয়েন্ট হলেই চলতো। দুই দলের পাল্টা-পাল্টি আক্রমণ দিয়েই চলছিল খেলা। মনে হচ্ছিল প্রথমার্ধে আর কোনো গোল হবে না। কিন্তু ৪৩ মিনিটে বক্সের মধ্যেই বিপক্ষ খেলোয়াড়কে ভুল পাস দিয়ে বসেন ডিফেন্ডার খালিলু কাউলুবালে। সেই বল পেয়েই ডান পায় শটে সেনেগালের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে মার্কস পিটারসন।

এরপর ৪৮ মিনিটে স্কোর দ্বিগুণ। সেনেগাল তখন সমতা আনার জন্য অলআউট অ্যাটাকে। সেই সুযোগে কাউন্টার অ্যাটাকে সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে আর্লিং হলান্ড কোনাকুনি শটে ভেফু দেন গোলরক্ষক মেন্ডির প্রতিরোধ।

দুই গোলে পিছিয়েও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছিল সেনেগাল। ৫৩ মিনিটে ইসমইলা সারা দারুণ স্টাইলে ডান পায়ের ভলিতে বোকা বানান নরওয়ের গোলরক্ষককে। ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর অল্প সময়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনা দল দারুণভাবে উজ্জ্বীবিত হওয়ার কথা। তবে নড়বড়ে ডিফেন্স লাইন থাকলে জেতাটা কঠিনই হয়ে যায়। সেনেগালের রক্ষণকর্মীদের ভুলই হলান্ডকে আরেকটি গোল উপহার দেয়। ৫৮ মিনিটের এই গোল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করে নরওয়েকে। সেনেগাল খেলোয়াড় বদল করেও সুবিধা পাচ্ছিল না। এরপরও ৯৩ মিনিটে ইসমাইলা সারার গোলে আবার ব্যবধান কমানো। ইনজুরি টাইমের পরের মিনিটগুলোতে আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ ম্যাচ জিতে নেয় নরওয়ে। ফলে ১৯৯৪ সালের পর আবার বিশ্বকাপের নকআউটে নরওয়ে।

ম্যাচে হ্যাটট্রিক পেতে পারতেন হলান্ড। তবে প্রথমার্ধে তার শটটি পোস্টে লেগে ফেরত আসায় নিজের তৃতীয় গোল আর আসেনি।