কালবোশেখি ঝড়
এ কে আজাদ
কালবোশেখি ঝড় গো আমার! কালবোশেখি ঝড়!
আসবে নাকি আমার দেশে হাওয়ায় করে ভর!
জানি- তুমি দাও উড়িয়ে পাখির নরম ঘর
তোমার ভয়ে ডাল-পাতারা কাঁপে যে থরথর!
ভেঙে ফেলো বৃক্ষ-শাখা, উপড়ে ফেলো গাছও
ফসলি ক্ষেত দুমড়ে মুচড়ে উন্মত্ত নাচ নাচো
উড়িয়ে দাও খড়ের চালা, টিনের চালা আরো
গরিব দুঃখীর ঘর উড়িয়ে জীবন নাশও কারো।
নিরীহ সব মানুষ মেরে করে যারা হইচই
সেই দস্যুদের হাতগুলোকে ভাঙাতে পারো কই?
ঘুষখোরের ঐ দালানকোঠায় শক্তি তোমার কই?
অক্ষত রয় দানোর প্রাসাদ, ময়ূরপঙ্খির ছই!
দুর্নীতির ঐ আখড়া যত, সাজানো দফতর
যেই ঘরেতে বসত করে পকেটমার আর চোর
তার ইটে কি শক্তি তোমার যায় হারিয়ে বলো?
অত্যাচারীর বুকে এবার ঝড় তোল ঝড় তোল।
হামটা গেছে ছড়িয়ে
এইচ এস সরোয়ারদী
বলছি না তো বাড়িয়ে
সুখটা গেছে হারিয়ে
হামটা গেছে ছড়িয়ে
দুঃখ ঝরছে গড়িয়ে।
শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে এখন
মায়ের শুধু চিন্তাই
জেলায় জেলায় বাড়ছে হাম
শুনছি সারা দিনটাই।
শিশুর জন্য বাবা-মা
করছে শুধু মানতি
হাম নিয়ে সারা দেশেই
ফুরিয়ে গেছে শান্তি।
নানার বৈশাখ
সেলিম এমরাজ
বৈশাখে ঐ শাখে দোলে কাঁচা আমটা
বিতরণ করে নানা হালখাতা খামটা
এরপর করে বসে ইলিশের দামটা
দাম শুনে ভুলে গেছে আজ তার নামটা।
চলছে না একটুও হার্টবিট, নার্ভটা
তবু ছিল বুদ্ধি যে কী দারুণ সার্পটা
তাই শেষে কিনে নিয়ে সিলভার কার্পটা
ইলিশের মতো বেঁধে করে নেয় কার্ভটা।
পানি দিয়ে ধুয়ে মুছে চশমার কাচটা
নাতিদের সাথে দেখে পুতুলের নাচটা
নাতিরা যে হাতি চায়, ঘোড়া চার-পাঁচটা
হাওয়া দেয়া বেলুনের পেট ফোলা মাছটা।
নাতিদের মাঝে দেখে নিজেদের পিছুটা
ভাসা ভাসা ভেসে ওঠে অতীতের কিছুটা
বৈশাখী ঝড়ে পড়া আম জাম লিচুটা-
কুড়াতেন মিলেমিশে উঁচু কিবা নিচুটা।
হতাম যদি প্রজাপতি
মিয়া ইব্রাহিম
ভোর বেলাতে ডালিম গাছে একটি প্রজাপতি
সাদা কালো পাখনা মেলে বসল দ্রুত গতি
তাই না দেখে আরো দু’টি হলুদ পাখা মেলে
ফুলের মধ্যে বসে তারা মজার খেলা খেলে।
কী আনন্দে ডালিম গাছে বসল তারা যেই
ফুলের রেণু আমি তখন আঙুল তুলে নেই
এমনি হঠাৎ উড়ে এসে ফুলেতে কেউ বসে?
এত্তো সুন্দর রঙিন পাখা যদি পড়ে খসে!
সন্ধ্যে হলে লাগলো মনে ঘরে ফেরার কাঁপণ
ওদের দেখে মনে হলো শত যুগের আপন
একে অন্যের বুঝা পড়া অর্ঘ্য দিয়ে কেনা
যতই দেখি অবাক হয়ে হয়নি যেন চেনা !
রঙ বাহারি রঙিন পাখ্না করছে ঝলমল
চোখ জুড়িয়ে যায় যে আমার নীরব টলমল
আমিও যদি প্রজাপতি হতাম ওদের মতো
পাখনা মেলে উড়ে যেতাম মজা হতো কত !
ট্রেন চলেছে চায়ের দেশে
মো: মোশারফ হোসেন
ট্রেন চলেছে চায়ের দেশে
ঝন ঝনা ঝন
বাতাস বলে তালে তালে
শন শনা শন।
যাই ছুটে যাই চায়ের দেশে
সবাই মিলে
তিন শত ষাট আউলিয়ার দেশ
জাগল দিলে।
সিটে বসে দৃশ্য দেখি
হেলে দূলে
নড়ে চড়ে কথা বলি
হেসে খেলে।
শাপলা শালুক ডাহুক ডাকা
ডিবির হাওর
রাতারগুলের সোয়াম ফরেস্ট
দেখায় বাঁওর।
ঝর্ণা দিলো প্রফুল্লতা
সিলেট এসে
কমলা খেয়ে প্রাণ জুড়ালো
চায়ের দেশে।
সুরমা নদীর পাড়টা ঘেঁষে
ঘুরতে গেলাম
সুস্বাদু সব খাবার খেয়ে
ঢাকায় এলাম।
হট্টি টি টি
নবী হোসেন নবীন
হট্টি টি টি হট্টি টি টি
ডাকছে পাখি সুরে
মাটির ওপর ডিম পেড়ে সে
যায় না সরে দূরে
ডিমের ওপর তা দেয় পাখি
বাস্কি বিলের বাঁকে
ডিম্ব হতে ছানা ফোটে
হট্টি টি টি ডাকে।
হট্টি টি টি ডাকে পাখি
সকাল দুপুর সাঁঝে
উদাস করা ডাক শুনে তার
মন বসে না কাজে।
কাঙালি
নাজীর হুসাইন খান
বৈশাখ এলে নতুনরূপে
আমরা সাজি বাঙালি
আনন্দে খুব আত্মহারা
ইলিশ-পান্তার কাঙালি।
কথায় কথায় সরি বলা
থ্যাংকস, ভেরি গুড ছাড়ছি না
মিশেল ছাড়া বাংলা ভাষায়
বলতে কথা পারছি না।
রঙিন শাড়ি মেন্দি হাতে
আলতা পায়ে রাঙালি
সারা বছর খোঁজ থাকে না
এ কেমন আজ বাঙালি!
বোশেখ
শাহীন সুলতানা
নতুন বছর নতুন সাজে
বোশেখ এলো ঘুরে
গাছে গাছে গাইছে কোকিল
মিষ্টি-মধুর সুরে।
পথে ঘাটে রোদের ঝিলিক
খুকু খুঁজে ছাতা
পাতার ফাঁকে দোয়েল নেচে
জাগায় শুধু মাথা।
হাম আক্রান্ত শিশু
শেখ সালমান শাহী
হাম আক্রান্ত শিশু
করছে খুব কান্না
মা ব্যস্ত সামলাতে
বাপ করছে রান্না।
শরীরে একশো জ্বর
আসছে খুব কাশি
পেরেশানে সবে
মুখের নেই হাসি।



