গরমে সিলেটে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার

চলতি সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন ১০০-১৫০ মেগাওয়াট ঘাটতি

Printed Edition

আবদুল কাদের তাপাদার সিলেট

তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে সিলেটে জনভোগান্তি বেড়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ, বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘœ ঘটছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশি হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বাতাসে জলীয়বাষ্পের আধিক্যের কারণে অনুভূত তাপমাত্রা আরো বেশি হওয়ায় গরমের অস্বস্তি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুতের লোডশেডিং ভোগান্তিকে আরো তীব্র করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নগরীর কোনো কোনো এলাকায় দিনে ৮-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। গ্রামাঞ্চলেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে তারা জানান। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বৈদ্যুতিক পাম্পে পানি তোলা যাচ্ছে না। ফলে বাসাবাড়ির পাশাপাশি মসজিদগুলোতেও পানির সঙ্কট দেখা দিচ্ছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে ফ্যান, ফ্রিজ ও এসিসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

নগরীর টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা নাছিমা বেগম বলেন, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ চলে যায়। একবার চলে গেলে দীর্ঘ সময় পর বিদ্যুৎ আসে। এতে শিশুদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

মদীন মার্কেট এলাকার বাসিন্দা আহসান খান বলেন, দিন-রাতের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট হচ্ছে। দ্রুত লোডশেডিং কমানোর দাবি জানান তিনি।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সিলেট বিভাগের চার জেলায় পিডিবির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ২৪৬ মেগাওয়াট। বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যায় ১৯১ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ৫৫ মেগাওয়াট। তবে চাহিদা ও সরবরাহ পরিস্থিতি ঘণ্টাভেদে পরিবর্তিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, চলতি সপ্তাহে সিলেটে গড়ে প্রতিদিন ১০০-১৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুতের ঘাটতি থাকছে। গরম বাড়ার সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ায় ঘাটতিও বাড়ছে। এ কারণে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

এ দিকে সিলেটের কুমারগাঁও, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শাহজিবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও জাতীয় গ্রিডের সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে স্থানীয় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

পিডিবি সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় সিলেটের চার জেলায় পিডিবির আওতাধীন এলাকায় চাহিদা ছিল ২৪৬ মেগাওয়াট। ওই সময়ে জাতীয় গ্রিড থেকে ১৯১ মেগাওয়াট পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে যতটুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যায়, পিডিবি ততটুকুই বিতরণ করে।