বিশেষ সংবাদদাতা
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) নতুন চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো: শামছুজ্জামান সুরুজ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দেশের বন্ধ সরকারি চিনিকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানো, আখচাষিদের স্বার্থ রা, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বিএসএফআইসিকে একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চান তিনি।
অ্যাডভোকেট শামছুজ্জামান সুরুজ বলেছেন, আমরা চিনি আমদানিনির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই। এ ল্েয আধুনিক প্রযুক্তি, অটোমেশন ও পেশাদার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চিনির পাশাপাশি বায়ো-ইথানল, জৈব সার ও ব্যাগাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে বাই-প্রোডাক্ট কাজে লাগানো হবে। এর পাশাপাশি আখচাষিদের উৎসাহিত করতে আখের দাম ও প্রণোদনা বাড়ানো হয়েছে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উচ্চফলনশীল জাত সম্প্রসারণ, বেসরকারি বিনিয়োগ ও পিপিপির মাধ্যমে বন্ধ কারখানা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
চেয়ারম্যান বিএসএফআইসিকে শতভাগ ডিজিটালাইজড, পরিবেশবান্ধব, লাভজনক ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করে দেশের চিনি আমদানিনির্ভরতা শূন্যে নামানোর ল্য জানিয়েছেন। অ্যাডভোকেট শাসুজ্জামান নয়া দিগন্তের সাথে এক বিশেষ সাাৎকারে এ কথা বলেন। নিচে তার সাাৎকারের বিস্তারিতÑ
প্রশ্ন : বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আপনার তাৎণিক অগ্রাধিকার কী?
শাসুজ্জামান সুরুজ : বিএসএফআইসির কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আমাদের মূল অগ্রাধিকার হলো চিনি উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা হলো দেশের সব কারখানার চাকা সচল রাখা। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বন্ধ সরকারি চিনিকলগুলো পর্যায়ক্রমে চালুর পাশাপাশি আখচাষিদের দাফতরিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও দেশী-বিদেশী যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্ধ কারখানাগুলোর চাকা সচল করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা এবং একটি লাভজনক ও টেকসই চিনি শিল্প গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান ল্য।
প্রশ্ন : বর্তমানে সরকারি চিনিকলগুলোর একটি অংশে মাড়াই কার্যক্রম বন্ধ। এগুলো চালুর েেত্র আপনার পরিকল্পনা কী?
শাসুজ্জামান সুরুজ : বর্তমানে দেশের ১৫টি সরকারি চিনিকলের মধ্যে ছয়টির মাড়াই কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। তবে এসব কারখানার আওতাধীন এলাকায় আখ চাষ বন্ধ হয়নি। আমরা পর্যায়ক্রমে এসব মিলকে উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছি। এ েেত্র শুধু সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর করতে চাই না। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপির মাধ্যমে বন্ধ কারখানাগুলো চালু এবং বহুমুখী প্রকল্পে বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। আমাদের ল্য হলো কারখানা চালুর পাশাপাশি এগুলোকে আধুনিক ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
প্রশ্ন : চিনিকলগুলোকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় কী পরিবর্তন আনতে চান?
শাসুজ্জামান সুরুজ : বিএসএফআইসির প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে আমরা স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং সুনির্দিষ্ট ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নীতির ওপর জোর দিচ্ছি। কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও অটোমেশনের মাধ্যমে সিস্টেম লস কমানো এবং অপচয় রোধ করা হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দতা বৃদ্ধির জন্য আধুনিক প্রশিণ, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একই সাথে উন্নত জাতের আখ চাষ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাপনাকে আরো স্বচ্ছ ও গতিশীল করা হবে।
প্রশ্ন : সরকারি চিনিকলগুলো লোকসানে থাকার অন্যতম কারণ কী বলে মনে করেন?
শাসুজ্জামান সুরুজ : ঋণের সুদ ও ‘ট্রেড গ্যাপ’ সরকারি চিনিকলের লোকসানের অন্যতম কারণ। বেসরকারি খাত অনেক েেত্র সুদ মওকুফের সুবিধা পেলেও সরকারি চিনিকলগুলো সেই সুবিধা যথাযথভাবে পায় না। এ বিষয়ে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য আবেদন করা হবে। আমরা মনে করি, ঋণের সুদ ও বিভিন্ন শুল্কের বিষয়গুলো আলাদা করে দেখলে বিএসএফআইসির প্রকৃত পরিচালন লোকসানের চিত্র ভিন্ন। গত অর্থবছরেই করপোরেশন সরকারকে প্রায় ২১৩ কোটি টাকা আবগারি শুল্ক, কর ও ভ্যাট দিয়েছে। তাই লোকসানের সামগ্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করে সমাধানের পথ বের করা প্রয়োজন।
প্রশ্ন : শুধু চিনি উৎপাদনের ওপর নির্ভর না করে বাই-প্রোডাক্ট ব্যবহারের পরিকল্পনা কতটা এগিয়েছে?
শাসুজ্জামান সুরুজ : চিনি শিল্পকে টেকসই করতে বহুমুখীকরণের কোনো বিকল্প নেই। নতুন নতুন বাই-প্রোডাক্ট তৈরির মাধ্যমে লোকসান কমানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আখ থেকে চিনি উৎপাদনের পাশাপাশি বায়ো-ইথানল, জৈব সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা কাজে লাগানো হবে। আখের ছোবড়া বা ব্যাগাস ব্যবহার করে ‘কো-জেনারেশন’ পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হলে সেটি চিনিকলের জন্য অতিরিক্ত রাজস্বের উৎস হবে।
প্রশ্ন : জ্বালানি সাশ্রয়ের েেত্র চিনিকলগুলো কী ভূমিকা রাখছে?
শাসুজ্জামান সুরুজ : রাষ্ট্রীয় জ্বালানি ব্যবহার করে কারখানা পরিচালনা করলে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ টাকা জ্বালানি ব্যয় হতো। কিন্তু নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে এই ব্যয় কমানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যাগাসভিত্তিক কো-জেনারেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো বাড়ানো হবে। এটি একই সাথে উৎপাদন ব্যয় কমাবে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশ ঘটাবে।
প্রশ্ন : চিনি শিল্পের সাথে লাখো আখচাষির জীবিকা জড়িত। তাদের উৎপাদনে উৎসাহিত করতে কী পদপে নেয়া হয়েছে?
শাসুজ্জামান সুরুজ : চিনিকল শুধু চিনি উৎপাদনের কেন্দ্র নয়; এটি লাখো আখচাষির জীবিকা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্থানীয় সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই চাষিদের স্বার্থকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। গত অর্থবছরে প্রতি কুইন্টাল আখের দাম ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। একই সাথে চাষিদের প্রণোদনা ছয় কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ কোটি টাকা করা হয়েছে। উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, চাষাবাদসংক্রান্ত পরামর্শ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তাও বাড়ানো হচ্ছে।
প্রশ্ন : আখচাষিদের অর্থ পরিশোধে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ ছিল। এ েেত্র কী পরিবর্তন এসেছে?
শাসুজ্জামান সুরুজ : এ েেত্র আমরা ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করছি। মোবারকগঞ্জ সুগার মিলে একটি পাইলট প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে আখের ওজন সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথে চাষির মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে। আগে কয়েকটি টেবিল ঘুরে অর্থ পেতে যে সময় লাগত, এখন ডিজিটাল ব্যবস্থায় তা অনেক দ্রুত সম্পন্ন হচ্ছে। এ পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য চিনিকলেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্ন : ডিজিটাল প্রযুক্তি কি শুধু অর্থ পরিশোধেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
শাসুজ্জামান সুরুজ : না। আমরা পুরো কৃষি ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল করার দিকে এগোচ্ছি। সফটওয়্যারের মাধ্যমে চাষিদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস, আখ চাষের সময়, রোগবালাই ও চাষাবাদসংক্রান্ত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এর ফলে কৃষক সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সাথে ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে আখ সংগ্রহ থেকে শুরু করে অর্থ পরিশোধ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানো সম্ভব হবে।
প্রশ্ন : দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও চিনির আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিএসএফআইসির পরিকল্পনা কী?
শাসুজ্জামান সুরুজ : দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিনির আমদানিনির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনার ল্য নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। এ জন্য কৃষক, বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত রূপরেখা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উচ্চফলনশীল ও অধিক চিনিযুক্ত আখের জাত সম্প্রসারণ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, তাৎণিক ই-পেমেন্ট এবং বাংলাদেশ সুগারক্রপ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (বিএসআরআই) সাথে যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে উন্নত জাত সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি পিপিপির মাধ্যমে বন্ধ কারখানা চালু এবং বহুমুখী প্রকল্পে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা হচ্ছে। কৃষকবান্ধব নীতি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বিএসএফআইসিকে খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে চাই।
প্রশ্ন : চিনিকলের সামাজিক গুরুত্ব কিভাবে দেখেন?
শাসুজ্জামান সুরুজ : চিনিকলের গুরুত্ব শুধু চিনি উৎপাদন দিয়ে বিচার করলে হবে না। একটি চিনিকলকে কেন্দ্র করে একটি বড় কৃষি ও সামাজিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে। লাখো আখচাষি ও তাদের পরিবার এর সাথে যুক্ত। এ ছাড়া এসব মিল হাসপাতাল ও শিাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রাস্তা ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নসহ আশপাশের জনগোষ্ঠীর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই কোনো চিনিকল বন্ধ হওয়ার অর্থ শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়া নয়; এর সাথে একটি বিস্তৃত স্থানীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো তিগ্রস্ত হয়।
প্রশ্ন : পরিবেশ সুরায় চিনি শিল্পের ভূমিকা কী?
শাসুজ্জামান সুরুজ : পরিবেশ সুরায় সরকারি চিনিকলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বিএসএফআইসি বছরে প্রায় ৬৬ হাজার ৪৫ টন কার্বন শোষণে অবদান রাখছে। একটি গবেষণাগত হিসাব অনুযায়ী, ১০টি আখের ঝাড় একটি বড় বটগাছের সমপরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। এ ছাড়া ব্যাগাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন, জৈব সার এবং অন্যান্য পরিবেশবান্ধব বাই-প্রোডাক্ট উৎপাদনের মাধ্যমে চিনি শিল্পকে একটি সবুজ শিল্পে রূপান্তরের সুযোগ রয়েছে।
প্রশ্ন : আপনার দীর্ঘমেয়াদি ভিশন কী? মেয়াদ শেষে বিএসএফআইসিকে কোন অবস্থানে দেখতে চান?
শাসুজ্জামান সুরুজ : আমার দীর্ঘমেয়াদি ভিশন হলো বিএসএফআইসিকে একটি লাভজনক, আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। একসময় বাংলাদেশ ফুড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ ও সুগার করপোরেশন একীভূত হয়ে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন গঠিত হয়েছিল। সময়ের বিবর্তনে বিএসএফআইসির কার্যক্রম মূলত চিনি শিল্পকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। আমি চাই, করপোরেশনকে শতভাগ ডিজিটালাইজড ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি দেশের বাজারে চিনি আমদানিনির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনতে। একই সাথে আগের মতো কৃষিনির্ভর কিছু খাদ্যশিল্পের সাথেও বিএসএফআইসির সম্পৃক্ততা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে চাই।
উচ্চফলনশীল আখের সম্প্রসারণ, উপজাতভিত্তিক বায়ো-ইথানল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং পিপিপি মডেলে কারখানাগুলোর বহুমাত্রিক আধুনিকায়নের মাধ্যমে কৃষকের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্থায়ী খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল ল্য।
প্রশ্ন : শেষ পর্যন্ত আপনার কাছে বিএসএফআইসির সফলতার মাপকাঠি কী হবে?
শাসুজ্জামান সুরুজ : আমাদের সফলতা শুধু কত টন চিনি উৎপাদন করলাম, তা দিয়ে বিচার করা যাবে না। আমরা চাই কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, সময়মতো অর্থ পাবেন, কারখানাগুলো সচল থাকবে, উৎপাদন বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং বাই-প্রোডাক্ট থেকে অতিরিক্ত আয় হবে। একই সাথে রাষ্ট্রের অর্থের ওপর চাপ কমিয়ে বিএসএফআইসিকে একটি স্বনির্ভর ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের কারখানাগুলোর চাকা সচল রেখে চিনি শিল্পকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও অর্থনীতির একটি শক্তিশালী খাতে পরিণত করাই আমাদের অঙ্গীকার।



