নিজস্ব প্রতিবেদক
সপ্তমবারের মতো এভারেস্ট জয় করল বাংলাদেশ। এবার যিনি এভারেস্ট জয় করেছেন তিনি হলেন বাংলাদেশী পর্বতারোহী করামুল হাসান শাকিল। গতকাল এই অভিযানের সমন্বয়ক বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের (বিএমটিসি) সদস্য সাদিয়া সুলতানা শম্পা শাকিলের এভারেস্ট জয়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এটা বাংলাদেশের সপ্তমবারের মতো এভারেস্ট জয়। তিনি জানান, ‘সি টু সামিট’ শীর্ষক শাকিলের এবারের অভিযান ছিল পদযাত্রা করে সবচেয়ে বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্ট জয়ের বিশ্বরেকর্ড। শাকিল যা করে দেখিয়েছেন সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে। বিশ্বের কেউ এর আগে এত কম বয়সে এমনিট করে দেখাতে পারেননি।
সাদিয়া সুলতানা শম্পা জানান, শাকিল বিশ্বরেকর্ড করে এভারেস্টের শিখরে আরোহণ করে ক্যাম্প ৪-এ ফিরেছেন। নেপালের স্থানীয় সময় গত সোমবার সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এভারেস্টের শিখরে আরোহণ করেন তিনি। শাকিলের ব্যাপারে নেপালি ট্রাভেল এজেন্সি ‘এইটকেএক্সপেডিশনস’ আমাদের এটুকু কনফার্ম করেছেন। ৮৪ দিনে কক্সবাজারের ইনানী সৈকত থেকে এভারেস্ট শিখর পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৩৭২ কিলোমিটার পথ হেঁটে এ অভিযান শেষ করেছেন শাকিল। তবে এখন তার চেয়েও জরুরি শাকিলের সম্পূর্ণ নিরাপদে বেস ক্যাম্পে ফিরে আসা।
শাকিলের জন্ম বাংলাদেশের গাজীপুরের কালিয়াকৈরে। তার বয়স ৩১ বছর। এর আগে ১৯৯০ সালে অস্ট্রেলিয়ার পর্বতারোহী টিম ম্যাকার্টনি-স্নেপ ভারতের গঙ্গাসাগর থেকে ৯৬ দিনে প্রায় এক হাজার ২০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পদচিহ্ন রাখেন। শাকিল তার চেয়ে সপ্তাহখানেক কম সময়ে পাড়ি দিয়েছেন আরো ১০০ কিলোমিটার বেশি। ম্যাকার্টনি রেকর্ড গড়েছিলেন ৩৪ বছর বয়সে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ইনানি সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু হয় শাকিলের পদযাত্রা। ৯০ দিনের মধ্যে ‘সি টু সামিট’ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে অভিযান শুরু করেন তিনি। যাত্রাপথে বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালের প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে এভারেস্টের ২৯ হাজার ৩১ ফুট উঁচু শিখরে আরোহণ করলেন শাকিল।
প্লাস্টিক-দূষণ বিষয়ে জনসচেনতা, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং পরিবেশ রক্ষায় টেকসই সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরতে এ অভিযান শুরু করেন এই পর্বতারোহী। এর আগে শাকিল প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে গ্রেট হিমালয়ান ট্রেইল সফলভাবে সম্পন্ন করেন, যা বিশ্বের ৩৩ জন পর্বতারোহী এখন পর্যন্ত সম্পন্ন করতে পেরেছেন।



