নৌপুলিশ ফাঁড়ির পাশেই নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার

Printed Edition

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির অদূরেই মেঘনা নদীর তীরে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল সংরক্ষণ, মেরামত ও ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নৌপুলিশ ফাঁড়ির জেটিঘাটসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

গত বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, ফাঁড়ির কাছাকাছি নোঙর করা অসংখ্য মাছ ধরার নৌকায় বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল রাখা হয়েছে। কোথাও জেলেরা জাল মেরামত করছেন, আবার কেউ নৌকা নিয়ে নদীতে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সময়ে মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে কারেন্ট জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করতেও দেখা যায়।

এ সময় ছবি তুলতে গেলে কয়েকজন জেলে আপত্তি জানান। জাহাঙ্গীর আলম নামে এক জেলে দাবি করেন, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নৌপুলিশ কর্মকর্তার সাথে কথা বলেই তারা সেখানে নৌকা রাখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজন জেলে বলেন, নৌপুলিশকে জানিয়েই তারা নৌকা রাখেন এবং বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার অনুরোধ জানান।

মতলবের মাটি ও মানুষ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামীম খান বলেন, মেঘনা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে নৌপুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান জরুরি। অন্যথায় নদীর মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে মোহনপুর নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রুহুল আমিন বলেন, জেলেরা সেখানে নৌকা রাখেন, তবে নৌকা রাখার বিষয়টি মৎস্য বিভাগের দেখার কথা। নদীতে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ ধরলে নৌপুলিশ ব্যবস্থা নেয়।

অন্য দিকে মতলব উত্তর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার প্রতিরোধ করা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার দায়িত্ব। তিনি জানান, সমন্বিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাঁদপুর নৌ অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমানের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।